ডিগ্রি ১ম বর্ষ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন pdf উত্তর সহ
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন ডিগ্রি ১ম বর্ষ pdf উত্তর…

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন ডিগ্রি ১ম বর্ষ pdf উত্তর সহ
বিষয়ঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন (বিষয় কোড: ১১১৫০১)
স্পেশাল সাজেশন ৯৯.৯৯% কমন ইনশাআল্লাহ
পরিক্ষা ২০২৪ অনুষ্ঠিত ২০২৫
| ক-বিভাগ (অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন) ১। নিচের যে-কোনো দশটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ক) পূর্ণরূপ লিখ LFO, PODO, BAKSAL উঃ LFO এর পূর্ণরূপ হলো- Legal Framework Order. PODO= Public Officers Disqualification Order . BAKSAL= Bangladesh Krishok Shromik Awami-league ২। বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোন ভাষা থেকে? উঃ বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা থেকে। ৩। অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন? উঃ অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন- হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। ৪। ভারত স্বাধীনতা আইন কত সালে পাস হয়? উঃ ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয় ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই। অথবা, কোন আইন দ্বারা ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়েছিল? উঃ ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়েছিল। ৫। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল? উঃ ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা। ৬। আওয়ামী মুসলিম লীগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? উঃ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। ৭। পাকিস্তানের সংবিধানে কখন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়? উঃ ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। ৮। মৌলিক গণতন্ত্রে কতজনের ভোটাধিকার ছিল? উঃ ৮০ হাজার। ৯। ছয়-দফা কত সালে ঘোষণা করা হয়? উঃ ঐতিহাসিক ছয়দফা ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে ঘোষিত হয়। ১০। ২৫ মার্চের গণহত্যার সাংকেতিক নাম কি ছিল? উঃ ২৫ মার্চের গণহত্যার সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’। অথবা, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ কি? উঃ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালিদের উপর পাকবাহিনী যে বর্বরতা চালায় তাকে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বলে। ১১। মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ খেতাব কি? উঃ মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ খেতাব-বীরশ্রেষ্ঠ। ১২। বাংলার জনপদগুলোর নাম লিখ। উঃ বঙ্গ, পুঞ্জ, সুক্ষ বা রাঢ়, গৌড়, সমতট, বরেন্দ্র, হরিকেল ইত্যাদি। ১৩। বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে? উঃ বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর করা হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে। ১৪। কোন গ্রন্থে বঙ্গ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়? উঃ বৈদিক সাহিত্য ঋগ্বেদের “ঐতরেয় আরণ্যক” গ্রন্থে। ১৫। অপারেশন জ্যাকপট’ কি? উঃ ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নৌ-কমান্ডো বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রথম সমন্বিত অভিযানই ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে অভিহিত। ১৬। ভারত কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়? উঃ ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। উঃ পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসন ৭ অক্টোবর, ১৯৫৮ সালে জারি করা হয়। ১৭। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন? উঃ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ চলোক মুজিবুর রহমান। ১৮। আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন? উঃ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯। লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন? উঃ শের এ বাংলা এ কে ফজলুল হক ২০। বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃন্দের নাম কি? উঃ বাংলাদেশের উচ্চতম বা সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং যার অপর নাম বিজয় বা মদক মুয়াল; বান্দরবান জেলার রুমায় অবস্থিত। ২১। কোন প্রাচীন গ্রন্থে ‘বঙ্গ’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়? উঃ বৈদিক সাহিত্য ‘ঋগ্বেদের ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে পাওয়া যায়। ২২। কোন দেশ সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন? উঃ ভুটান। ২৩। বাংলাদেশের আদি জনপদের অধিবাসীরা কোন জাতির অন্তর্ভুক্ত? উঃ অস্ট্রালয়েড বা অস্ট্রিক জাতির অন্তর্ভুক্ত। ২৪। বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম কী? উঃ বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম মেঘনা। ২৫। দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে? উঃ দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন- মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ২৬। বঙ্গভঙ্গ কবে হয়? উঃ বঙ্গভঙ্গ হয় ১৯০৫ সালে। ২৭। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয় কত সালে? উঃ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয় ২০ মার্চ, ১৯৪০ সালে। ২৮। বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে কোন ভৌগোলিক রেখা অতিক্রম করেছে? উঃ কর্কট ক্রান্তি ভৌগোলিক রেখা অতিক্রম করেছে। ২৯। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীন ছিল? উঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা ২ নং সেক্টরের অধীন ছিল। ৩০। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে কারা শহীদ হন? উঃ আসাদ, ড. শামসুজ্জোহা, মতিউর রহমান শহিদ হন। ৩১। পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর কে ছিলেন? উঃ স্যার ফ্রেডারিক চালমার্স বোর্ন ৩২। পাকিস্তান গণপরিষদে কে সর্বপ্রথম উর্দুর সাথে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন? উঃ পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ৩০। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন? উঃ লিয়াকত আলী খান। ০৪। পাকিস্তানে প্রথম সংবিধান কত সালে প্রণয়ন করা হয়? উঃ ১৯৫৬ সালে। ৩৫। স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে? উঃ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ৩৬। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়? উঃ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ৩৭। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কত দফা ঘোষণা করেন? উঃ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৩৮। আওয়ামী-মুসলিম লীগের প্রথম সেক্রেটারী কে ছিলেন? উঃ শামসুল হক। ৩৯। পাকিস্তানে প্রথম কত সালে সামরিক শাসন জারি করা হয়? উঃ ১৯৫৮ন সালের ৭ অক্টোবর । ৪০। মৌলিক গণতন্ত্র কে প্রবর্তন করেছিলেন? উঃ সামরিক শাসক আইয়ুব খান। ৪১। কোন কর্মসূচি বাঙালির ম্যাগনাকার্টা নামে পরিচিত? উঃ ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি বা কর্মসূচিকে বাংলার ম্যাগনাকার্টা বলা হয়। ৪২। শামসুজ্জোহা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন? উঃ শামসুজ্জোহা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ৪৩। পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন কে জারি করেন? উঃ পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন-ইস্কান্দার মির্জা। ৪৪। কখন মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করা হয়? উঃ ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর। ৪৫। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কবে গঠিত হয়? উঃ ১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর। ৪৬। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে? উঃ আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ৪৭। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে চনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে কয়টি আসব লাউ করে?’ উঃ ১৬৭ টি আসন লাভ করে। |
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন
খ বিভাগ
(যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
মান-৪*৫=২০
| প্রশ্ন | উত্তর |
| ১। “অপারেশন সার্চ লাইট” কী? ১০০% | উত্তর |
| ২। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর। ১০০% | উত্তর |
| ৩। বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে লিখ | উত্তর |
| ৪। ১৯৭০ এর নির্বাচনের গুরুত্ব লেখ | উত্তর |
| ৫। আগরতলা আমলার কারণ কি ছিল? ১০০% | উত্তর |
| ৬। অখণ্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ। ১০০% | উত্তর (এখান থেকে ধারনা নিয়ে নিজের মত করে সাজিয়ে লিখবেন) |
| ৭। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিবরণ দাও। ১০০% | উত্তর |
| ৮। মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর সম্পর্কে লেখ | উত্তর |
| ৯। যুক্তফ্রন্ট সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। ১০০% অথবা, যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি আলোচনা কর। | উত্তর |
| ১০। সংস্কৃতির সমন্বয়বাদিতা ও ধর্মীয় সহনশীলতা বলতে কী বুঝায়? ১০০% | উত্তর |
| ১১। মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে টীকা লেখ। ৯৯% | উত্তর |
| ১২। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের গুরুত্ব লেখ। ৯৮% | উত্তর |
| ১৩। মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখ। ৯৯% | উত্তর |
| ১৪। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে টীকা লেখ। ৯৫% | উত্তর |
| ১৫। দ্বি-জাতি তত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর। | উত্তর |
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন
গ-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)
১। বাংলাদেশের জনগণের নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয় দাও। ১০০% উত্তর
২। ঔপনিবেশিক শাসন আমলে বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার উদ্ভব ও বিকাশ আলোচনা কর। ১০০% উত্তর
৩। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলোচনা কর। ১০০% উত্তর
৪। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের কারণ লেখ। ১০০% উত্তর
৫। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল ও গুরুত্ব বর্ণনা কর। ১০০% উত্তর
৬।১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর। ১০০% উত্তর
৭। ছয়দফা কর্মসূচিকে বা আন্দোলনকে কেন বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয়? উত্তর ১০০%
৮। আগরতলা মামলার কারণ ও ফলাফল বর্ণনা কর। উত্তর ১০০%
৯। ১৯৭১ সালের মার্চের অসহযোগ আন্দোলনের বর্ণনা দাও। ১০০% উত্তর
অথবা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে একটি নিবন্ধ লিখ। ১০০% উত্তর
১০। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যগুলো আলোচনা কর। ১০০% উত্তর
১১। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের অবদান আলোচনা কর। ১০০% উত্তর
১২। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের অবদান আলোচনা কর। ১০০% উত্তর
১৩। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি ব্যাখ্যা কর। ৯৮% উত্তর
অথবা, ১৯৬৬ সালের ছয়-দফা আন্দোলনের পটভূমি ও গুরুত্ব সম্পর্কে লিখ। উত্তর
১৪। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভূপ্রকৃতির প্রভাব আলোচনা কর। ৯৮% উত্তর
অথবা, বাংলাদেশের অধিবাসীদের আর্থ-সামাজিক জীবনধারায় ভূ-প্রাকৃতিক প্রভাব আলোচনা কর।
১৫। মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা বর্ণনা কর। ৯৫% উত্তর
Extra Question for safe preparation
** লাহোর প্রস্তাব কি ? এর বৈশিষ্ট্যগুলো লিখ। উত্তর
** লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা কর । এর প্রতিপাদ্য কি ছিল? উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন এর উত্তর
খ বিভাগ এর উত্তর
১. সাম্প্রদায়িকতা কী?
সাম্প্রদায়িকতা বলতে এক সম্প্রদায়ের প্রতি অন্য সম্প্রদায়ের অবিশ্বাস, বিদ্বেষ এবং শত্রুতাপূর্ণ মনোভাবকে বোঝায়। এটি সাধারণত ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করে। সাম্প্রদায়িক মনোভাব একটি সমাজে সংঘাত, দাঙ্গা এবং বিভাজনের জন্ম দেয়। বিশেষত উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার উৎপত্তি ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার সময়ে দেখা গিয়েছিল, যখন শাসকেরা বিভাজন নীতির মাধ্যমে জনগণকে বিভক্ত রাখে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িকতা বহুবার চরম আকার ধারণ করেছে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পেছনে সাম্প্রদায়িকতার বড় ভূমিকা ছিল। তৎকালীন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক ধর্মীয় ভাবধারা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়িয়ে তোলে। সাম্প্রদায়িকতার ফলে সমাজে ঐক্য ও শান্তি বিঘ্নিত হয় এবং এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
এ কারণে সাম্প্রদায়িকতা একটি অবাঞ্ছিত সামাজিক ব্যাধি যা একটি বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক দেশের সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির জন্য হুমকি। এটি দমন করতে সহনশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার চর্চা জরুরি।
২. ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব লেখ।
ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি ছিল বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ বিশেষত শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক নেতারা প্রতিবাদে সোচ্চার হন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের ফলে ১৯৫৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব:
১. এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদকে উজ্জীবিত করে।
২. এ আন্দোলন ভবিষ্যতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে।
৩. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
৪. ভাষা আন্দোলন সাংস্কৃতিক চেতনা ও গৌরবের প্রতীক।
ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক অর্জন যা আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা বলে গণ্য হয়।
৩. যুক্তফ্রন্ট গঠনের কারণ কী?
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রধান কারণ ছিল তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকারের ব্যর্থতা এবং বাঙালিদের অধিকারহীনতা। মুসলিম লীগ সরকার পশ্চিম পাকিস্তানকে প্রাধান্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্বার্থকে অবহেলা করছিল।
গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহ:
১. অর্থনৈতিক শোষণ: পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ লুট করে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন করা হচ্ছিল।
২. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিকে উপেক্ষা করা হয়।
৩. মৌলিক অধিকার খর্ব: জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি।
৪. রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব: মুসলিম লীগের শাসনে দুর্নীতি ও অযোগ্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
এ অবস্থায় আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, গণতান্ত্রিক দল এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ঐক্যবদ্ধভাবে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে। তাদের ২১ দফা দাবির মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং শোষণ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
৪. কেন ছয় দফা আন্দোলনকে ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়?
ছয় দফা আন্দোলনকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয় কারণ এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।
ছয় দফার গুরুত্ব:
১. এটি বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি প্রতিষ্ঠা করে।
২. ছয় দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক শোষণ বন্ধের কথা বলে।
৩. এটি কেন্দ্রের একচেটিয়া ক্ষমতার বিপরীতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতের পথ দেখায়।
৪. ছয় দফা আন্দোলনই ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে।
এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সনদ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
৫. ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য কী ছিল?
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থা এবং সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা। আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, ছয় দফা আন্দোলনের দমন-পীড়ন এবং শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে ফেটে পড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যসমূহ:
১. ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন।
২. আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অবসান।
৩. গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৪. বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ বন্ধ।
এ আন্দোলনে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্রসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
৬. মুজিবনগর সরকারের উপর সংক্ষিপ্ত নোট লেখ।
মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়। ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গঠন:
- রাষ্ট্রপতি: শেখ মুজিবুর রহমান (অনুপস্থিত)
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ
- উপ-প্রধানমন্ত্রী: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- মন্ত্রিসভার সদস্য: এ এইচ এম কামারুজ্জামান, এম মনসুর আলী
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং শরণার্থীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭. বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের উপর একটি টীকা লেখ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
হত্যার কারণ:
১. বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা দমন।
২. মেধাশূন্য বাংলাদেশ তৈরি করা।
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরের রায়েরবাজার ও মিরপুরে চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক,
সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশার বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড ছিল স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাঙালির জন্য এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।



