আল-কুরআনের সংজ্ঞা দাও।
আল-কুরআনের সংজ্ঞা দাও। আল-কুরআন (Al-Qur’an) হলো ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম ঐশী…
আল-কুরআনের সংজ্ঞা দাও।
আল-কুরআন (Al-Qur’an) হলো ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম ঐশী গ্রন্থ, যা মুসলমানদের বিশ্বাস ও জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি। এটি মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক এবং ইসলামী শরীয়তের প্রধান উৎস।
১. আল-কুরআনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
আল-কুরআন হলো:
১. আল্লাহর কালাম (বাণী): কুরআন হলো মহান আল্লাহর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) স্বয়ং কালাম বা কথা। এটি কোনো মানুষ বা ফেরেশতার নিজের লেখা নয়, বরং সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
২. নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ: এটি সর্বশেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।
৩. ওহী-র মাধ্যমে নাযিল: এটি জিব্রাঈল (আ.) নামক ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী (ঐশী প্রত্যাদেশ) হিসেবে প্রেরিত হয়েছে।
৪. লিখিত রূপে সংরক্ষিত: মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় এটি মুখস্থ ও লিখিত আকারে সংরক্ষিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)-এর সময় একটি প্রামাণ্য গ্রন্থে সংকলিত হয়।
৫. পঠন ইবাদত: এটি তেলাওয়াত করা বা পাঠ করা মুসলমানদের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত (পূজা) হিসেবে গণ্য হয়।
৬. চ্যালেঞ্জমুক্ত অলৌকিক গ্রন্থ: এর ভাষা, সাহিত্যমান ও ভবিষ্যদ্বাণীর অলৌকিকতা এতটাই উচ্চ যে, আল্লাহ মানুষকে এর মতো ছোট একটি সূরাও রচনা করে আনার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, যা আজও কেউ পূরণ করতে পারেনি।
২. নামকরণের তাৎপর্য
আরবি শব্দ ‘আল-কুরআন’-এর আভিধানিক অর্থ হলো ‘যা বারবার পঠিত হয়’ (The Recitation)। এই নাম ইঙ্গিত করে যে, এটি এমন এক গ্রন্থ যা মানবজাতির প্রতি বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এবং নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য নাযিল হয়েছে।
উপসংহার
সুতরাং, আল-কুরআন হলো মানবতার মুক্তি ও সফলতার জন্য প্রেরিত, সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সেই অলৌকিক বাণী, যা পাঠ করা ইবাদত।
