কসফ-এর বিধান কি?
কসফ-এর বিধান কি? কসফ (Khasf) হলো চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণকে বোঝাতে…
কসফ-এর বিধান কি?
কসফ (Khasf) হলো চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণকে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি আরবি পরিভাষা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় কসফ (বা কুসূফ-সূর্যগ্রহণ এবং খুসূফ-চন্দ্রগ্রহণ) মূলত এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত বিশেষ সালাত (নামাজ) বা ইবাদতের বিধান। কসফ-এর বিধান হলো এই সময় আল্লাহ্ তা’আলার কাছে আশ্রয় চাওয়া ও তাঁর বড়ত্ব প্রকাশ করা।
Shutterstock
কসফ-এর শরয়ী বিধান: সালাতুল কুসূফ
কসফ-এর সময় মুসলমানদের জন্য সালাতুল কুসূফ বা সালাতুল খুসূফ নামক বিশেষ নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি একটি শক্তিশালী সুন্নাহ, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে আদায় করেছেন এবং সাহাবিদের আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।
- আদায়ের পদ্ধতি: এই নামাজ সাধারণত দুই রাকাত করে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। তবে এই নামাজের বিশেষত্ব হলো, এতে প্রতি রাকাতে দুটি করে রুকু এবং দুটি করে কিরাত (কুরআন তেলাওয়াত) থাকে। অর্থাৎ, স্বাভাবিক নামাজের মতো এক রাকাতে একটি রুকুর পরিবর্তে এখানে দুটি রুকু করা হয়।
- সময়: নামাজটি গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো সময় আদায় করা যায়।
- স্থান: এটি সাধারণত মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নাত, তবে একা আদায় করলেও তা জায়েজ।
বিধানের গুরুত্ব ও উদ্দেশ্য
ইসলামে গ্রহণ বা কসফ-এর ঘটনাকে আল্লাহ্ তা’আলার কুদরত (ক্ষমতা) ও সতর্কবাণী হিসেবে দেখা হয়। এর মূল উদ্দেশ্যগুলি হলো:
১. আল্লাহর স্মরণ: এই মহাজাগতিক পরিবর্তন দেখে মানুষ যেন আল্লাহর শক্তি ও মহিমা স্মরণ করে। ২. ভয় ও আশ্রয়: রাসূলুল্লাহ (সা.) গ্রহণের সময় কিয়ামতের আশঙ্কায় ভীত হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন। এই নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুমিনরা পাপ মোচন ও আল্লাহর রহমত কামনা করে। ৩. বিজ্ঞান ও বিশ্বাস: যদিও ইসলাম গ্রহণে কুসংস্কার বিশ্বাস করতে নিষেধ করে (যেমন: কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রহণ হয়), তবে এই নামাজ আদায় করে এটি মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রতিটি প্রাকৃতিক ঘটনা আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশে ঘটে।
উপসংহার
কসফ-এর বিধান হলো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময় বিশেষ দুই রাকাত নামাজ (সালাতুল কুসূফ) আদায় করা, যা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এই বিধানের লক্ষ্য হলো আল্লাহর কুদরত স্মরণ, ক্ষমা প্রার্থনা ও তাঁর প্রতি একান্তভাবে মনোনিবেশ করা।
