সুরা আন- নুরের আলোকে অপরের গৃহে প্রবেশের বিধান লেখ।
সুরা আন- নুরের আলোকে অপরের গৃহে প্রবেশের বিধান লেখ। পবিত্র…
সুরা আন- নুরের আলোকে অপরের গৃহে প্রবেশের বিধান লেখ।
পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূর (২৪ নং সুরা) মুমিনদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়। বিশেষ করে, অপরের ব্যক্তিগত পরিসরে অর্থাৎ গৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসলাম যে নৈতিক ও নিরাপত্তার বিধান দিয়েছে, তা এই সুরায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গৃহে প্রবেশের মৌলিক বিধানসমূহ
সুরা আন-নূরের ২৭ ও ২৮ নং আয়াতে অপর ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই বিধানগুলো কেবল শালীনতা নয়, বরং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) রক্ষার নিশ্চয়তাও প্রদান করে:
১. অনুমতি গ্রহণ: আল্লাহ্ তা’আলা নির্দেশ দিয়েছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে তার অধিবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।” (সুরা আন-নূর, ২৪:২৭)। এটি একটি নৈতিক ভিত্তি যে, অন্যের গৃহে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই মালিকের স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে।
২. সালাম প্রদান: অনুমতি চাওয়ার পাশাপাশি ঘরের মালিককে সালাম (শান্তি কামনা) জানাতে হবে। এটি একটি প্রীতিময় অভিবাদন এবং আপনার আগমনের বিষয়ে তাকে অবহিত করার মাধ্যম।
৩. প্রত্যাবর্তন: অনুমতি না পেলে বা গৃহে কেউ না থাকলে জোর করে বা লুকিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। আল্লাহ্ বলেন, “যদি তোমরা সেখানে কাউকে না পাও, তবে তোমাদেরকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না; আর যদি তোমাদেরকে ‘ফিরে যাও’ বলা হয়, তবে তোমরা ফিরে এসো। এটাই তোমাদের জন্য পবিত্রতম।” (সুরা আন-নূর, ২৪:২৮)। ফিরে আসার নির্দেশ পালনে মুমিনদের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে।
৪. নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা: এই বিধানের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার প্রবেশ থেকে বিরত থাকা। হঠাৎ প্রবেশ অনেক সময় ঘরের অভ্যন্তরে থাকা মানুষদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
উপসংহার
সুরা আন-নূরের এই বিধানগুলো ইসলামের উন্নত সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিফলিত করে। অপরের গৃহে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি ও সালামের মাধ্যমে মুমিনরা পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
