বাইয়াতে রিদওয়ান এর গুরুত্ব লিখ।
বাইয়াতে রিদওয়ান হলো ইসলামের ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, যা…
বাইয়াতে রিদওয়ান হলো ইসলামের ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, যা ৬ষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরের পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল। এই প্রতিজ্ঞার পেছনে ছিল সাহাবীগণের অটল আনুগত্য ও আত্মত্যাগের মহান অঙ্গীকার।
বাইয়াতে রিদওয়ানের পটভূমি
নবী মুহাম্মদ (সাঃ) একদল সাহাবীসহ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার কাছে হুদায়বিয়া নামক স্থানে পৌঁছান। কুরাইশরা তাদের মক্কায় প্রবেশে বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাসূল (সাঃ) উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)-কে আলোচনার জন্য মক্কায় প্রেরণ করেন। উসমান (রাঃ)-এর ফিরতে দেরি হওয়ায় গুজব ছড়ায় যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাসূল (সাঃ) কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সাহাবীগণকে এক গাছের নিচে সমবেত করেন।
Getty Images
বাইয়াতে রিদওয়ানের প্রধান গুরুত্বসমূহ
এই ঐতিহাসিক বাইয়াত বা শপথের গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী:
- আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা: সাহাবীরা এই প্রতিজ্ঞায় মৃত্যু পর্যন্ত যুদ্ধ করার শপথ নেন। এটি রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি তাঁদের অবিচল বিশ্বাস ও সর্বোচ্চ আনুগত্যের প্রতীক।
- আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ: পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতহ-এর ১৮ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা এই প্রতিজ্ঞায় অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এই কারণে এই বাইয়াতকে “বাইয়াতে রিদওয়ান” (সন্তোষের শপথ) বলা হয়।
- হুদায়বিয়ার সন্ধির ভিত্তি: এই শপথের মাধ্যমে কুরাইশদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছানো হয়েছিল যে মুসলমানরা প্রস্তুত। এর ফলস্বরূপ, কুরাইশরা আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
- ঐতিহাসিক সম্মান: যারা এই বাইয়াতে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা ইসলামের ইতিহাসে ‘আস-সাবিকুনাল আওয়ালুন’ (অগ্রণী প্রথম দল)-এর পরে এক বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
উপসংহার
বাইয়াতে রিদওয়ান ছিল মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সাহসিকতা ও ঈমানী দৃঢ়তার এক অবিস্মরণীয় নজির। এটি কেবল একটি শপথ ছিল না, বরং ইসলামের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিকে সুদৃঢ় করার অন্যতম ভিত্তি।
