মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর সম্পর্কে লেখ
মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর সম্পর্কে লেখ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর…
মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর সম্পর্কে লেখ
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর ছিল ৪ নম্বর সেক্টর, যা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহসিকতার কারণে এই সেক্টরটি ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জন্য এক বিভীষিকা। মুজিবনগর সরকার কর্তৃক দেশকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য যে ১১টি সামরিক সেক্টরে ভাগ করা হয়, ৪ নং সেক্টর তার মধ্যে অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর হিসেবে এর সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর হিসেবে ৪ নং সেক্টরের মূল তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিক:
১. ভৌগোলিক বিস্তৃতি: এই সেক্টরটি মূলত বৃহত্তর সিলেটের পূর্বাংশ (খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন ব্যতীত পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত এবং হবিগঞ্জ জেলার অংশ বিশেষ) নিয়ে গঠিত ছিল। ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি থেকে ত্রিপুরার আগরতলার খোয়াই পর্যন্ত প্রায় ৩৪০ মাইল সীমান্ত এলাকা এর আওতাভুক্ত ছিল।
২. সেক্টর কমান্ডার: এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত মেজর চিত্তরঞ্জন (সি আর) দত্ত এই সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ক্যাপ্টেন এ রবও কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন।
৩. সদর দপ্তর: সেক্টরটির প্রথম সদর দপ্তর ছিল ভারতের করিমগঞ্জে এবং পরে তা আসামের মাসিমপুরে স্থানান্তরিত হয়।
৪. সামরিক বিন্যাস: গেরিলা যুদ্ধের জন্য উপযোগী এই সেক্টরটি ছয়টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিল। এদের মধ্যে জালালপুর, বড়পুঞ্জী, আমলসিদ, কুকিতল, কৈলাশশহর এবং করিমগঞ্জ অন্যতম।
৫. মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা: এই সেক্টরে প্রায় ৯ হাজার গেরিলা যোদ্ধা এবং প্রায় ৪ হাজার নিয়মিত বাহিনীর সদস্য বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।
৬. যুদ্ধের কৌশল: সেক্টরের ভূ-প্রকৃতি পাহাড় ও টিলা সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় এটি গেরিলা যুদ্ধের জন্য বিশেষ উপযোগী ছিল। এখানে নিয়মিত ও গণবাহিনী উভয়ই কার্যকরভাবে যুদ্ধ করে বহু সফল অপারেশন পরিচালনা করে।
৭. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক: দেওয়ান ফরিদ গাজী রাজনৈতিক সংযুক্তিতে এবং আজিজুর রহমান প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন, যা যুদ্ধের সুষ্ঠু পরিচালনায় সহায়ক হয়েছিল।৪ নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে অসামান্য অবদান রাখেন। তাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টর এর ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।


