লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতা বলতে কী বোঝায়?

লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতা বলতে কী বোঝায়? লেনদেনের ভারসাম্যের (Balance of…

লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতা বলতে কী বোঝায়?

লেনদেনের ভারসাম্যের (Balance of Payments – BoP) প্রতিকূলতা বলতে বোঝায় যখন কোনো দেশের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য বা ঘাটতি দেখা দেয়, যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাধারণত এটি ঘটে যখন দেশের আমদানি আয়তনের তুলনায় রপ্তানি আয় কমে যায়, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পায় এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

ডিগ্রি পরিক্ষার সকল বিষয়ের সাজেশন ও এর উত্তর

Degree suggestion Facebook group


লেনদেনের ভারসাম্যের প্রধান দুই অংশ:

  1. চলতি হিসাব (Current Account): যেখানে রপ্তানি-আমদানি, সেবাখাত লেনদেন ও প্রবাসী আয় অন্তর্ভুক্ত।
  2. পুঁজি ও আর্থিক হিসাব (Capital & Financial Account): যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ, ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেন অন্তর্ভুক্ত।

যখন চলতি হিসাবের ঘাটতি বেশি হয়ে যায় এবং পুঁজি ও আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয় না, তখনই লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়


লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতার কারণ:

  1. রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া → বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
  2. প্রবাসী আয় বা বৈদেশিক বিনিয়োগের হ্রাস → ডলার প্রবাহ কমে যায়।
  3. বৈদেশিক ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি
  4. অপ্রয়োজনীয় আমদানি বৃদ্ধি ও বিলাসদ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি
  5. দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন → আমদানি খরচ বেড়ে যায়, ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
  6. রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা → বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায়।

লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতার প্রভাব:

  1. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস → ফলে মুদ্রার মান কমে যায় (ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে)।
  2. বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি → দেশের ঋণের বোঝা বাড়ে।
  3. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি → সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়।
  4. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হয় → বিনিয়োগ কমে এবং প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পায়।

উপসংহার:

লেনদেনের ভারসাম্যের প্রতিকূলতা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। এটি মোকাবিলার জন্য রপ্তানি বৃদ্ধি, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, প্রবাসী আয় বাড়ানো ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করা জরুরি। সরকার যদি সঠিক নীতি গ্রহণ করতে পারে, তবে লেনদেনের ভারসাম্য স্থিতিশীল রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *