বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্থার সমূহের আয়ের উৎস সমূহ আলোচনা কর
স্থানীয় সংস্থার সমূহের আয়ের উৎস বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্থাগুলোর আয়ের উৎস…
স্থানীয় সংস্থার সমূহের আয়ের উৎস
বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্থাগুলোর আয়ের উৎস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। স্থানীয় সংস্থা বা স্থানীয় সরকার ইউনিটগুলোর আয়ের উৎসগুলি মূলত তাদের সেবা প্রদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় সংস্থাগুলোর আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে প্রধানগুলো হল:
১. স্থানীয় কর (Local Taxes)
স্থানীয় সংস্থাগুলি জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের কর আদায় করে থাকে। এই করগুলো প্রায়ই স্থানীয় সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হয়।
- হোল্ডিং ট্যাক্স (Holding Tax): এই করটি নাগরিকদের বা ব্যবসায়ীদের জমি বা ভবন মালিকানা সম্পর্কিত।
- ব্যবসায়িক কর (Business Tax): ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।
- পেশাগত কর (Professional Tax): স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশাজীবী যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, শিক্ষক, ইত্যাদির কাছ থেকে আদায় করা হয়।
Table of Contents
২. রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার থেকে অনুদান বা বরাদ্দ
স্থানীয় সরকারকে বিভিন্ন প্রকল্প বা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার অনুদান এবং বরাদ্দ প্রদান করে। এগুলি হতে পারে:
- এলজিএফ (LGF): এটি স্থানীয় সরকারের জন্য একটি বড় উৎস, যা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন: বিভিন্ন সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে অনুদান পায়।
৩. পরিষেবা ফি (Service Fees)
স্থানীয় সরকার বিভিন্ন সেবা প্রদান করে, যার জন্য তারা ফি আদায় করে থাকে।
- জরিমানামূলক ফি: যেমন পৌরকর, ময়লা ফেলা, সড়ক ব্যবহারের ফি ইত্যাদি।
- পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ফি: স্থানীয় সরকার কর্তৃক পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেবার জন্য জনগণের কাছ থেকে ফি আদায়।
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফি: বিভিন্ন পৌরসভা এবং স্থানীয় সংস্থা বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ফি নেয়।
৪. স্থানীয় সম্পত্তি বা ভূমি থেকে আয়
স্থানীয় সংস্থাগুলি তাদের অধীনে থাকা জমি ও সম্পত্তি থেকে আয় অর্জন করতে পারে।
- ভূমি ভাড়া: স্থানীয় সরকার কর্তৃক স্থাপনা বা জমি ভাড়া দেওয়া হলে সেখানে থেকে আয় আসে।
- সম্পত্তি বিক্রি: স্থানীয় সংস্থা তাদের অধীনে থাকা জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করে আয় করতে পারে।
- নিলাম বা টেন্ডার: কোন নির্দিষ্ট কাজে বা প্রকল্পে স্থানীয় সরকার টেন্ডার বা নিলাম ডেকে আয় অর্জন করতে পারে।
৫. বিভিন্ন অনুমোদন ফি ও লাইসেন্স ফি
স্থানীয় সংস্থাগুলি জনগণের কাছে বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স বা অনুমোদনের জন্য ফি আদায় করে।
- ব্যবসায়িক লাইসেন্স ফি: স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লাইসেন্স প্রদান করা হয় এবং তার জন্য ফি আদায় করা হয়।
- নির্মাণ অনুমোদন ফি: জমি বা ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার কর্তৃক অনুমোদন নেওয়ার সময় ফি নেওয়া হয়।
- বিজ্ঞাপন ফি: কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি স্থানীয় এলাকার মধ্যে বিজ্ঞাপন বা সাইনবোর্ড স্থাপন করে, তাহলে স্থানীয় সরকার সেখান থেকে ফি আদায় করতে পারে।
৬. অন্যান্য উৎস
স্থানীয় সংস্থাগুলির আরও কিছু আয়ের উৎস রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে তারা অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
- ঋণ বা ঋণের আদান-প্রদান: স্থানীয় সরকার কখনো কখনো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ঋণ নেয় এবং সেই ঋণের মাধ্যমে সেবা প্রদান এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারে।
- এনজিও বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা: কিছু সময়ে স্থানীয় সরকার বা সংস্থা আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং এনজিও থেকে তহবিল গ্রহণ করে।
৭. মুদ্রা বিক্রয় (Sale of Assets)
স্থানীয় সরকার কখনো কখনো তাদের অপ্রয়োজনীয় সম্পত্তি বা অপ্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রি করে আয় করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, পুরনো যানবাহন বা অপর্যাপ্ত অবকাঠামো বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হতে পারে।
৮. বিশেষ প্রকল্পের জন্য সাহায্য বা তহবিল
স্থানীয় সরকার অনেক সময় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিশেষ তহবিল বা সাহায্য পায়। যেমন, জলবায়ু পরিবর্তন বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা দেশ থেকে তহবিল পেতে পারে।
এই সব আয়ের উৎস স্থানীয় সংস্থার পরিচালনা, উন্নয়ন এবং সেবা প্রদান করতে সহায়ক হয়ে থাকে। যথাযথভাবে এসব উৎসের ব্যবহার এবং আয় সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্থিতিশীল এবং কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।