মৌলিক গণতন্ত্র কি
মৌলিক গণতন্ত্র কি মৌলিক গণতন্ত্রঃ ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক…

মৌলিক গণতন্ত্র কি
মৌলিক গণতন্ত্রঃ ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পশ্চিমা ধাচের গনতন্ত্র বাদ দিয়ে নিজের প্রবর্তিত এক প্রকার গনতন্ত্র ব্যবস্থা চালু করেন যার নাম মৌলিক গনতন্ত্র। তার মতে উন্নয়নশীল দেশসমূহের নাগরিকগন যেহেতু সিংহভাগ অশিক্ষিত তাই তারা সঠিক পার্থী বাচাই করতে করতে পারবে না । তাই তিনি সারাদেশ থেকে ৮০০০০ নির্বাচক মন্ডলী বাচাই করেন যারা পরবর্তী সরকারকে নির্বাচিত করবে।
তিনি সারাদেশের শাসন ব্যবস্থাকে চারটি ভাগে ভাগ করেন । গ্রাম এলাকার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ বা শহর অঞ্চলের জন্য নগর কমিটি , থানা পরিষদ , জেলা পরিষদ, বিভাগীয় পরিষদ ।
আইয়ুব খান তার প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং মৌলিক গণতন্ত্রকে চারটি স্তরে ভাগ করেছিলেন। এই স্তরগুলো ছিল একটি ধাপে ধাপে সংগঠিত পদ্ধতি, যা স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত। স্তরগুলো হলো:
১. ইউনিয়ন কাউন্সিল (Union Council):
- এটি প্রশাসনের সবচেয়ে নিম্ন স্তর।
- প্রত্যেক ইউনিয়নের জনগণ সরাসরি তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করত।
- ইউনিয়ন কাউন্সিলের দায়িত্ব ছিল স্থানীয় স্তরে গ্রামীণ উন্নয়ন, জনসেবা এবং প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা।
২. থানা কাউন্সিল (Thana Council):
- ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত থানা কাউন্সিল।
- এটি ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করত।
- থানা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তত্ত্বাবধান করা হতো।
৩. জেলা কাউন্সিল (District Council):
- একাধিক থানার সমন্বয়ে গঠিত জেলা কাউন্সিল।
- জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বাজেট প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হতো।
- এটি স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর ছিল।
৪. ডিভিশনাল এবং প্রাদেশিক স্তর (Divisional and Provincial Level):
- জেলা কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রাদেশিক স্তরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
- প্রাদেশিক গভর্নর এবং প্রেসিডেন্ট এই স্তরের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ ছিলেন।