| | | |

বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BARD) এর ভূমিকা মুূল্যায়ন কর

বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BARD) এর ভূমিকা মুূল্যায়ন কর ভূমিকা:…

বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BARD) এর ভূমিকা মুূল্যায়ন কর

বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BARD) এর ভূমিকা মুূল্যায়ন কর

ভূমিকা:

বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BARD) দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাজ করে। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থা কৃষি, সমবায়, নারী উন্নয়ন, ও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। এটি গ্রামীণ জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতা ও উন্নয়ন ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

বিআরডিবির ভূমিকা (মূল্যায়ন):

  1. কৃষি উন্নয়ন:
  • সেচ, বীজ ও সার সংক্রান্ত সুবিধা দেওয়া।
  • আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ।
  • ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।
  1. সমবায় ভিত্তিক উন্নয়ন:
  • গ্রামে সমবায় সংগঠন গঠন ও পরিচালনা।
  • যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন।
  1. ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) উন্নয়ন:
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরিতে ঋণ ও পরামর্শ প্রদান।
  • গ্রামীণ পর্যায়ে শিল্প গড়ে তোলার সহায়তা।
  1. নারীর ক্ষমতায়ন:
  • নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
  • নারীদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি।
  1. দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা:
  • দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প।
  • আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
  1. স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন উন্নয়ন:
  • পল্লী অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সচেতনতা বাড়ানো।
  • স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থার উন্নয়ন।
  1. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন:
  • প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি।
  • যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি।
  1. গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন:
  • রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন।
  • গ্রামীণ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করা।
  1. পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন:
  • বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রম।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা।
  1. ক্ষুদ্র ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান:
  • সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান।
  • উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা।
  1. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি:
  • কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন।
  • ফসল ও পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন।
  1. গ্রামীণ নেতৃত্ব বিকাশ:
  • গ্রামীণ জনগণকে নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
  • স্থানীয় সমস্যার সমাধানে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

উপসংহার:

পল্লী উন্নয়ন বোর্ড গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এটি দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে, উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সমন্বিত এবং প্রযুক্তি নির্ভর হলে এর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়বে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *