| | |

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি পর্যালোচনা কর

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি পর্যালোচনা কর সূচনাঃ চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক…

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি
চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি পর্যালোচনা কর

সূচনাঃ চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি প্রধানত ইউরোপের রাজনীতিতে ফ্রান্সকে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছিল। তাঁর পররাষ্ট্র নীতিগুলি চারটি মূল দিকের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে:

১. ফ্রান্সের সীমানা সম্প্রসারণ:

চতুর্দশ লুই ইউরোপের বৃহত্তর ভূমির অধিকার চেয়ে ফ্রান্সের সীমানা সম্প্রসারণে মনোযোগী ছিলেন। ফ্রান্সকে রাইন নদী পর্যন্ত প্রসারিত করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল। এই উদ্দেশ্যে তিনি নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং জার্মানির কিছু অংশ দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সীমানা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন যুদ্ধ সংঘটিত হয়:

  • ডাচ যুদ্ধ (1672-1678): ফ্রান্স ও ডাচ প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধে তিনি নেদারল্যান্ডস দখলের চেষ্টা করেন, তবে ডাচদের সমর্থনে অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তিগুলি যুদ্ধের মাধ্যমে ফ্রান্সের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে।
  • ফ্রাঙ্কো-স্প্যানিশ যুদ্ধ (1635-1659): চতুর্দশ লুই-এর আগে থেকে শুরু হলেও তিনি এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং পিরেনিজ চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্সকে স্পেনের অংশ এলাকা প্রদান করান।
  • স্প্যানিশ উত্তরাধিকার যুদ্ধ (1701-1714): এই যুদ্ধে তিনি স্পেনের সিংহাসনে নিজের নাতি ফিলিপকে বসানোর চেষ্টা করেন।

২. কৌশলগত বিয়ে ও মিত্রতা গঠন:

চতুর্দশ লুই কৌশলগতভাবে বিয়ে এবং মিত্রতার মাধ্যমে ইউরোপের রাজ্যগুলির সাথে জোট গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্পেনের রাজা ফিলিপ মেয়ে মারি-থেরেসাকে বিয়ে করেন । এ বিয়ে ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে রাজনৈতিক মৈত্রী গড়ে তোলে, যদিও পরবর্তীকালে এর ভঙ্গুরতা দেখা যায়।

৩. ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা:

চতুর্দশ লুই তাঁর নীতির মাধ্যমে ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্য নিজের পক্ষে রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন যেন কোনো একক শক্তি (বিশেষত হ্যাবসবার্গ রাজবংশ) ইউরোপে প্রাধান্য না পায়। এজন্য তিনি বিভিন্ন রাজ্যগুলির মধ্যে কূটনৈতিক চুক্তি এবং যুদ্ধে লিপ্ত হন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সকে একক ইউরোপীয় আধিপত্যশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

৪. দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং সামরিক আধিপত্য:

চতুর্দশ লুই ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে সামরিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

  • ডেভলপমেন্ট অব আ স্ট্যান্ডিং আর্মি: তাঁর শাসনামলে ফ্রান্স একটি স্থায়ী এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করে, যা ইউরোপের অন্যান্য শক্তির বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা প্রদান করেছিল।
  • নাইন ইয়ার্স ওয়ার (1688-1697): ফ্রান্স ও ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধে লুইয়ের লক্ষ্য ছিল ইউরোপের রাজনীতিতে ফ্রান্সের আধিপত্য বজায় রাখা।
পর্যালোচনা:

চতুর্দশ লুইয়ের পররাষ্ট্র নীতি ফ্রান্সকে ইউরোপে সামরিক এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করলেও এর কিছু নেতিবাচক দিকও ছিল। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং সামরিক খরচের ফলে ফ্রান্সের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাঁর মৃত্যুর পরপরই ফ্রান্স অর্থনৈতিক সংকটে পতিত হয় এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে ফরাসি বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে।

ডিগ্রি ইসলামের ইতিহাস ৬ষ্ঠ পত্র সাজেশন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *