ডিগ্রি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৫ম পত্র সাজেশন উত্তরসহ pdf ২০২৫

ডিগ্রি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৫ম পত্র সাজেশন উত্তরসহ pdf…

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৫ম পত্র সাজেশন
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৫ম পত্র সাজেশন

ডিগ্রি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৫ম পত্র সাজেশন উত্তরসহ pdf ২০২৫


ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ অনুষ্ঠিত ২০২৫
বিভাগঃ BA-BSS

বিষয়ঃ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি পঞ্চম পত্র (আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস: 131601)


ক বিভাগ (অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)
১। ‘ভেটো’ শব্দের অর্থ কী?
অথবা, ভেটো (Veto) অর্থ কি?
উঃ আমি ইহা মানিনা।
২। ‘দ্য স্পিরিট অব লজ’ গ্রন্থটি কে প্রণয়ন করেন?
অথবা, ‘দি স্পিরিট অব দি লজ’ গ্রন্থের লেখক কে?
উঃ ফরাসি দার্শনিক মন্টেঙ্কু।
৩। ‘নেপোলিয়ন কোড’ কি?
উঃ ১৮০০ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট আইনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং সংস্কার সাধনে একটি আইন কমিশন নিয়োগ করেন। এ কমিশন বিভিন্ন ধরনের অসংগত আইন বাতিল করে সুসংগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন-কানুন প্রণয়ন করে, যা কোড নেপোলিয়ন নামে পরিচিত।
৪। ওয়াটার লু যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?
উঃ ওয়াটার লু যুদ্ধ ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়।
৫। ইউরোপের রুগ্ন ব্যক্তি কাকে
অথবা, ‘ইউরোপের রুগ্নব্যক্তি’ কাকে বলা হয়? অথবা, কাকে ইউরোপের রুগ্নব্যক্তি বলা হয়?
উঃ তুরস্ককে ইউরোপের রুগ্ন ব্যক্তি বলা হয়।
৬। কাকে আধুনিক রাশিয়ার জনক বলা হয়?
উঃ পিটার দি গ্রেটকে।
৭। জুমা কি?
উঃ রাশিয়ার জাতীয় পার্লামেন্ট।

৮। ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র কি ছিল?
অথবা, ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র কি? অথবা, ফরাসি বিপ্লবের মূল উপজীব্য কি?
উঃ স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
৯। পবিত্র চুক্তি কি?
উঃ রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার খ্রিস্টধর্মের মূলনীতির
ভিত্তিতে ইউরোপীয় নেতৃবর্গের সাথে যে চুক্তি সম্পাদন করেন
তাকে পবিত্র চুক্তি বলে।
১০। ফিলকি হিটাইরিয়া কী?
অথবা, ‘হিটাইরিয়া ফিলকি কি?
অথবা, Hetariaia philke.
উঃ গ্রিসের স্বাধীনতা আন্দোলনের
ভ্রাতৃসংঘ।sugges
১১। গিলোটিন কী?
উঃ গিলোটিন নামে এক ব্যক্তি পাইকারি হারে মানুষের শিরচ্ছেদের জন্য একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এই ব্যক্তির নামানুসারে যন্ত্রটি
গিলোটিন নামে পরিচিতি লাভ করে।
১২। মুসোলিনি কে ছিলেন?
উঃ ইতালির ফ্যাসিস্ট দলের নেতা।
১৩। ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা কে ছিলেন?
উঃ ষোড়শ লুই।
১৪। ‘The Social Contract’ গ্রন্থের লেখক কে?
উঃ জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
১৫। রেনেসাঁ কোন দেশে প্রথম শুরু হয়?
অথবা, রেনেসাঁস প্রথম কোথায় শুরু হয়েছিল?
উঃ রেনেসাঁ প্রথম ইতালিতে শুরু হয়।
১৬। বিসমার্ক কে ছিলেন?
উঃ জার্মানির চ্যান্সেলর।
১৭। নাৎসিবাদের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
অথবা, নাৎসি পার্টি গঠন করেন কে?
উঃ এডলফ হিটলার।
১৮। বাফার স্টেট কী?
উঃ বিবাদমান দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ক্ষুদ্র, স্বাধীন ও
নিরপেক্ষ রাষ্টকে বাফার স্টেট বলে।
১৯। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?
অথবা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় কত সালে?
অথবা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় কত তারিখে?
উঃ ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
২০। সেন্ট হেলেনা দ্বীপ কেন বিখ্যাত?
উঃ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেপোলিয়নকে নির্বাসিত করা হয় বলে।
২১। ট্রাফালগারের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
উঃ ১৮০৫ সালে।
২২। কখন বলকান লীগ গঠিত হয়?
উঃ বলকান লীগ গঠিত হয় ১৯১২ সালে।
২৩। UNO কী?
উঃ UNO হলো বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের একটি ঐক্যবদ্ধ সংগঠন।
অথবা, UNO-এর পূর্ণরূপ কি?
উঃ UNO-এর পূর্ণরূপ হলো: United Nations Organization.
২৪। টেইলি কি?
উঃ টেইলি হলো সম্পত্তির উপর ধার্যকৃত কর।
২৫। উড্রো উইলসন কে ছিলেন?
উঃ আমেরিকার ২৮তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
২৬। ভার্সাই সন্ধি কখন স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ ১৯১৯ সালে।
২৭। ভার্সাই নগরী কোথায়?
উঃ ভার্সাই নগরী ফ্রান্সে অবস্থিত।
২৮। কোন দেশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাফার স্টেট বলা হতো?
উঃ বেলজিয়ামকে।
২৯। বলকান অঞ্চলভুক্ত দুইটি দেশের নাম লিখ।
উঃ গ্রিস ও সার্বিয়া।
৩০। বলশেভিক বিপ্লব কত সালে সংঘটিত হয়?
অথবা, বলশেভিক বিপ্লব কত সালে হয়েছিল?
উঃ বলশেভিক বিপ্লব ১৯১৭ সালে হয়েছিল। রকেট সাজেশন বাংলাদেশ লিমিটেড
৩১। কোন সময়কালকে “মেটারনিকযুগ” বলা হয়?
উঃ অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর মেটারনিক ১৮১৫-১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত
ইউরোপীয় রাজনীতিতে যে প্রভাব বিস্তার করেন তার এই সময়
কালকে মেটারনিক যুগ বলে।
৩২। গ্যারিবন্ডি কে ছিলেন?
উঃ ম্যাজিনির শিষ্য এবং ইতালির স্বনামধন্য জনপ্রিয় সামরিক নেতা। ৩৩। কার নেতৃত্বে জার্মানীর একত্রীকরণ সম্পন্ন হয়েছিল?
অথবা, দুই জার্মানি একত্রিকরণ করেন কে?
উঃ অটোভন বিসমার্কের নেতৃত্বে।
৩৪। কাকে রাশিয়ার ‘উদার নৈতিক জার’ বলা হয়?
উঃ দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে রাশিয়ার উদার নৈতিক জার বলা হয়।
৩৫। প্রাচ্য সমস্যা কি, প্রাচ্য সমস্যা কোন ধরনের সমস্যা?
উঃ তুরস্ক অধিভুক্ত বলকান অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়
ইউরোপীয় শক্তিবর্গের পরস্পর বিরোধী স্বার্থ নিয়ে যে- সমস্যার উদ্ভব হয় তাই প্রাচ্য সমস্যা নামে পরিচিত। রাজনৈতিক সমস্যা।
৩৬। গ্রিক স্বাধীনতা যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
উঃ গ্রিক স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৮২১ সালে সংঘটিত হয়।
৩৭। সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ কে ছিলেন?
উঃ সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ ছিলেন সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের পুত্র। ৩৮। ক্রিমিয়ার যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়, স্থায়িত্ব কত বছর??
উঃ ১৮৫৪ সালে। ২ বছর (১৮৫৪-১৮৫৬)।
৩৯। বার্লিন চুক্তির সময় ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উঃ ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডিজরেলি।
৪০। প্রথম বলকান যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
উঃ ১৯১২ সালে প্রথম বলকান যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

১। প্রাচ্য সমস্যা ও ফ্যাসিবাদ কী? ১০০%
২। মেটারনিক পদ্ধতি কী ছিল? ১০০%
৩। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণসমূহ লেখ। ১০০%
৪। প্রথম বলকান যুদ্ধকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মহড়া বলা হয় কেন ? ১০০%
৫। বার্লিন চুক্তি (১৮৭৮) সম্পর্কে একটি টাকা লেখ। ১০০%
৬। পবিত্র চুক্তি ও দ্বি শক্তি চুক্তি বলতে কি বুঝ? ১০০%
৭। ফ্রেব্রুয়ারি বিপ্লব কি? ফ্রেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলাফল কী ছিল? ১০০%
৮। আলোকিত স্বৈরতন্ত্র বলতে কি বুঝ? ১০০%
৯। ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ইউরোপের রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও। ১০০%
১০। পরিচয় দাও: কাউন্ট ক্যাডর, এডলফ হিটলার, মুহাম্মদ আলী পাশা। ৯৯%
১১। স্টেটস জেনারেল কী? ৯৯%
অথবা, ইউরোপীয় কনসাট বলতে কি বুঝ? ৯৯%
১২।১৯১৯ সালের ভার্সাই সন্ধিকে একতরফা সন্ধি বলা হয় কেন? ৯৯%
১৩। ‘লীগ অব নেশনস’ এর ব্যর্থতার কারণসমূহ লেখ। ৯৯%
১৪। বাস্তিলের পতনের উপর একটি টীকা লিখ। ১৮%
১৫। তৃতীয় নেপোলিয়নের পতনের কারণ কী ছিল? ৯৮%
অথবা, তৃতীয় নেপোলিয়নের অভ্যন্তরীণ নীতি সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।


গ-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)
১। গ্রিক স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর। ১০০%
২। ইতালি একত্রীকরণে কাউন্ট ক্যাভুর ও গ্যারিবন্ডির অবদান মূল্যায়ন কর। ১০০%
৩। রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সংস্কারসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ১০০%
৪। ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের প্রধান কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ কর। ১০০%
৫। ফ্রান্সে ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণ ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ১০০%
৬। ১৯১৯ সালের ভার্সাই চুক্তির প্রধান শর্তগুলো আলোচনা কর। ১০০%
৭। নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সংস্কারসমূহ আলোচনা কর। ১০০%
৮। ভিয়েনা কংগ্রেসের মূলনীতিসমূহ বিশ্লেষণ কর। ১০০%
৯। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহ লিখ। এ যুদ্ধে তুরস্ক কেন জার্মানীর পক্ষে যোগ দিয়েছিল? ১০০%
১০। “মহাদেশীয় ব্যবস্থা’ কী? নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পতনের জন্য এ ব্যবস্থা কতটুকু দায়ী ছিল? আলোচনা কর। ৯৯%
১১। ফরাসি বিপ্লব কী? ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান মূল্যায়ন কর। ৯৯%
১২। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে হিটলারের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিরূপণ কর। ৯৯%
অথবা, ১৯৩৩ সাল থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত এডলফ হিটলারের বৈদেশিক নীতি পর্যালোচনা কর।
১৩। ‘মেটারনিক যুগ’ বলতে কি বুঝ? ইহা কেন ব্যর্থ হয়েছিল? ৯৮%
১৪। ১৮৭৮ সালের বার্লিন চুক্তির প্রধান ধারাগুলো বিশ্লেষণ কর। ৯৮%
১৫। মিশরের মুহাম্মদ আলী পাশা এবং তুরস্কের অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের দ্বন্দ্বের একটি বিবরণ দাও। এর ফলাফল কী হয়েছিল? ৯৫%

খ-বিভাগ এর উত্তর

১। প্রাচ্য সমস্যা ও ফ্যাসিবাদ কী?

প্রাচ্য সমস্যা বলতে মূলত উনবিংশ শতকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনকে ঘিরে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর দ্বন্দ্বকে বোঝায়। তুরস্ককে একসময় “ইউরোপের অসুস্থ মানুষ” বলা হতো। অটোমান সাম্রাজ্যের শক্তি যখন কমতে শুরু করে, তখন রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্র এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামে। বিশেষ করে বালকান অঞ্চল, কৃষ্ণসাগর আর ভূমধ্যসাগর ঘিরে এই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। প্রাচ্য সমস্যার ফলে নানা যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেমন গ্রিক স্বাধীনতা যুদ্ধ, ক্রিমিয়ার যুদ্ধ, বলকান যুদ্ধ ইত্যাদি। এর প্রভাবেই পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়।

অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদ হলো বিংশ শতকের এক স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতবাদ, যার উৎপত্তি ইতালিতে। মুসোলিনির নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফ্যাসিবাদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো জাতীয়তাবাদ, একনায়কতন্ত্র, বিরোধী মত দমন, সামরিক শক্তির মহিমা আর ব্যক্তি স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। এটি জনগণকে একটি একক রাষ্ট্রীয় আদর্শের অধীনে আনতে চাইত। পরবর্তীতে হিটলারের নাৎসিবাদও ফ্যাসিবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূলে এই মতবাদের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


২। মেটারনিক পদ্ধতি কী ছিল?

ভিয়েনা কংগ্রেসের (১৮১৫) অন্যতম স্থপতি ছিলেন অস্ট্রিয়ার কূটনীতিক প্রিন্স মেটারনিক। নেপোলিয়নের পতনের পর ইউরোপে শান্তি ও স্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি যে কূটনৈতিক কৌশল ব্যবহার করেন, তাই ইতিহাসে মেটারনিক পদ্ধতি নামে পরিচিত।

এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজতান্ত্রিক শাসন বজায় রাখা, বিপ্লব দমন করা এবং ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য তৈরি করা। মেটারনিক বিশ্বাস করতেন, যদি প্রতিটি রাষ্ট্র তার সীমার মধ্যে থাকে এবং নতুন কোনো রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা না করে তবে শান্তি বজায় থাকবে। এজন্য তিনি ‘কনসার্ট অব ইউরোপ’ গড়ে তোলেন—এক ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যেখানে অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, প্রুশিয়া, ইংল্যান্ড প্রভৃতি শক্তিশালী রাষ্ট্র একে অপরকে সহযোগিতা করত।

মেটারনিক উদারতাবাদ ও জাতীয়তাবাদকে ভয় পেতেন। কারণ, এগুলো রাজতান্ত্রিক শাসনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত করেন, গোপন পুলিশ ব্যবস্থাকে জোরদার করেন এবং বিপ্লবীদের দমন করেন। এই নীতি ইউরোপে কিছু সময় শান্তি বজায় রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থামাতে পারেনি।


৩। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের কারণসমূহ

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ (১৮৫৩–১৮৫৬) ইউরোপীয় শক্তিগুলোর পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল। এর প্রধান কারণগুলো হলো—

১. অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতা: অটোমানরা ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছিল। রাশিয়া এই সুযোগে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করতে চাইছিল।
২. পবিত্র স্থান সংক্রান্ত বিরোধ: জেরুজালেমের পবিত্র স্থানের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে রাশিয়া (অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের পক্ষ) ও ফ্রান্স (ক্যাথলিকদের পক্ষ) বিরোধে জড়ায়।
৩. রাশিয়ার সম্প্রসারণবাদ: রাশিয়া কৃষ্ণসাগর হয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের স্বপ্ন দেখছিল। এতে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স আতঙ্কিত হয়, কারণ এতে তাদের বাণিজ্যপথ ও উপনিবেশিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
৪. ইউরোপের শক্তির ভারসাম্য নীতি: কোনো রাষ্ট্রকে অতি শক্তিশালী হতে দিতে চাইত না বাকিরা। তাই রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া অটোমানদের পক্ষে দাঁড়ায়।

ফলাফল হিসেবে রাশিয়া পরাজিত হয় এবং কৃষ্ণসাগরকে নিরপেক্ষ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এই যুদ্ধ প্রাচ্য সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে এবং ইউরোপের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে।


৪। প্রথম বলকান যুদ্ধকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মহড়া বলা হয় কেন?

প্রথম বলকান যুদ্ধ (১৯১২) শুরু হয় যখন সার্বিয়া, মন্টেনিগ্রো, গ্রিস ও বুলগেরিয়া মিলে অটোমান সাম্রাজ্যের বলকান অঞ্চলের বিরুদ্ধে জোট বাঁধে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তুর্কিদের বলকান থেকে বিতাড়িত করা।

যুদ্ধের সময় ইউরোপের শক্তিগুলোও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। রাশিয়া সার্বিয়া ও স্লাভ জাতির প্রতি সমর্থন দেয়, অন্যদিকে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার উত্থান ঠেকাতে চায়। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সও নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে সচেষ্ট হয়। ফলে একটি আঞ্চলিক সংঘাত ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক রূপ নেয়।

এই যুদ্ধকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মহড়া বলা হয় কয়েকটি কারণে—
১. ইউরোপের বড় শক্তিগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এতে জড়ায়।
২. জাতীয়তাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ আর শক্তির ভারসাম্য রক্ষার নীতি এখানে মুখ্য ভূমিকা রাখে, যা পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও দেখা যায়।
৩. বলকান সংকট থেকেই সার্বিয়া ও অস্ট্রিয়ার দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯১৪ সালের সারায়েভো হত্যাকাণ্ড ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা।

অতএব, প্রথম বলকান যুদ্ধ আসলে ইউরোপীয়