ডিগ্রি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১ম পত্র সাজেশন Pdf উত্তর সহ

ডিগ্রি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১ম পত্র সাজেশন ডিগ্রী বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ অনুষ্ঠিত…

ডিগ্রি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১ম পত্র সাজেশন
ডিগ্রি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১ম পত্র সাজেশন

ডিগ্রি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১ম পত্র সাজেশন

ডিগ্রী বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ অনুষ্ঠিত ২০২৫

বিষয়ঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম পত্র (রাজনৈতিক তত্ত্ব: 111901)

ক বিভাগ (অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

১। পূর্ণরূপ লিখ-NATO.

উঃ NATO-এর পূর্ণরূপ হলো- North Atlantic Treaty Organization.

২। রাষ্ট্রের উপাদান কয়টি ও কী কী?

উঃ রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা-১, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ২. জনসমষ্টি ৩.

সরকার ৪. সার্বভৌমত্ব

৩। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত সঠিক মতবাদ কোনটি?

8: ‘The Politics’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

অথবা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে?

অথবা, “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান”-উক্তিটি কার?

অথবা, “Constitution is the way of life the

state has chosen for itself”-উক্তিটি কার? অথবা, লাইসিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উঃ এরিস্টটল।

৫। ‘সদৃগুণই জ্ঞান’- উক্তিটি কার?

অথবা, “সদগুণই আন”-উক্তিটি কার?

অথবা, “Virtue is knowledge” কার উক্তি?

অথবা, Know thyself উক্তিটি কার?

উঃ গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস-এর।

৬। এরিস্টটলের মতে উত্তম ও নিকৃষ্ট সরকার কোনটি?

অথবা, এরিস্টটলের মতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা কোনটি?

উঃ এরিস্টটলের মতে উত্তম সরকার পলিটি (Polity) বা মধ্যতন্ত্র।

৭। মধ্যযুগের এরিস্টটল বলা হয় কাকে?

অথবা, “Summa Theologica” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

উঃ সেন্ট টমাস একুইনাস।

৮। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার প্রধান কে?

উঃ প্রধানমন্ত্রী।

৯। সরকারের চতুর্থ অঙ্গ কোনটি?

উঃ সরকারের চতুর্থ অঙ্গ হলো- নির্বাচকমণ্ডলী।

১০। আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক কে?

অথবা, ‘The Prince’ গ্রন্থের লেখক কে?

অথবা, “A Prince should combine the

qualities of a fox and a lion.” অর্থাৎ শাসককে হতে হবে সিংহের মতো বলবান ও শৃগালের মত ধূর্ত-উক্তিটি কার? অথবা, ‘রাষ্ট্র’ শব্দটি কে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন?

উঃ নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি।

১১। “Law is the command of sovereign” উক্তিটি কার?

অথবা, “সার্বভৌমের আদেশই আইন”- উক্তিটি কার?

অথবা, সার্বভৌমত্বের একত্ববাদী ধারণার প্রবক্তা কে?

উঃ জন অস্টিন।

১২। ‘The Social Contract’ গ্রন্থটির লেখক কে?

অথবা, ‘Man is born free, but every where he is in chain’ উক্তিটি কার?

অথবা, সংসদীয় গণতন্ত্রের জনক কে?

অথবা, সম্মতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

অথবা, “Two Treatises on Civil Government”-

কার রচিত? অথবা, “Two Treatises on Civil

Government”-গ্রন্থটির লেখক কে?

উঃ জন লক।

১৩। ‘Polis’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘Polis’ শব্দের অর্থ হলো- ‘City State’ বা নগররাষ্ট্র।

১৪। রাষ্ট্রের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?

অথবা, রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?

উঃ সার্বভৌমত্ব।

১৫। “The Republic’ গ্রন্থের লেখক কে?

অথবা, “Academy” কে প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন?

অথবা, একাডেমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা কে?

উঃ প্লেটো।

১৬। ‘City of God’ গ্রন্থটির লেখক কে?

অথবা, “দুই তরবারী” তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

অথবা, “বিধাতার রাষ্ট্র” ধারণাটি কে দিয়েছেন?

উঃ St. Augustine (সেন্ট অগাস্টিন)।

১৭। জাতীয়তাবাদের চারটি উপাদানের নাম লিখ।

উঃ ১. ভৌগলিক ঐক্য, ২. বংশগত ঐক্য, ৩. আচরণ ও রীতিনীতির ঐক্য এবং ও৪. রাজনীতি ঐক্য প্রভৃতি।

১৮। Demos’ শব্দটির অর্থ কি?

উঃ Demos শব্দের অর্থ জনগণ।

১৯। অধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ কোনটি?

উঃ অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হলো-আইন।

২০। সরকারের অঙ্গ কয়টি?

উঃ তিনটি। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।

২১। সার্বভৌমত্বের বহুত্ববাদের সমর্থক দুজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম লেখ।

উঃ লাস্কি, বার্কার, ম্যাকাইভার প্রমুখ।

২২। কখন “গৌরবময় বিপ্লব” হয়েছিল?

উঃ ১৬৮৮ সালে।

২৩। ইংরেজি ‘Liberty’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কি?

উঃ ‘Liberty’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হলো স্বাধীনতা।

২৪। রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে সঠিক মতবাদ ও যেকোনো দুইটি মতবাদের নাম লিখ।

উঃ রাষ্ট্র সৃষ্টির গ্রহণযোগ্য মতবাদটি হল ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত দুটি মতবাদ হলো: ১. ঐতিহাসিক

উঃ রাষ্ট্র সৃষ্টির গ্রহণযোগ্য বা সঠিক মতবাদটি হলো- ঐতিহাসিক বা
বা বিবর্তনমূলক মতবাদ ও ২. সামাজিক চুক্তি মতবাদ।

বিবর্তনমূলক মতবাদ।

নিকৃষ্ট সরকার গণতন্ত্র। সবচেয়ে নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্র।

২৫। আইনের শাসন কি?

উঃ সাধারণভাবে আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে আইনে শাসন বলে।

২৬। “Political Science begins and ends with

the State”-উক্তিটি কার?

উঃ উক্তিটি অধ্যাপক গার্নার এর।

২৭। The Spirit of Laws’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

অথবা, ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ মতবাদের প্রবক্তা কে?

অথবা, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?

উঃ মন্টেস্কু।

২৮। পলিটি কি?

উঃ পলিটি (Polity) শব্দটি সাধারণত একটি শাসনব্যবস্থাকে

নির্দেশ করে, যা মধ্যবিত্তদের বা জনগণের বৃহত্তর অংশের দ্বারা

পরিচালিত হয়।

২৯। ‘Leviathan’ গ্রন্থটির লেখক কে?

উঃ টমাস হস।

৩০। আধুনিক গণতন্ত্রের জনক কে?

(এরিস্টটলের মতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা হিসেবে সাধারণত গণতন্ত্রকে উল্লেখ করা হয়। তবে এখানে গণতন্ত্র বলতে তিনি আধুনিক গণতন্ত্রকে বুঝাতেন না বরং বহু সংখ্যক লোকের স্বেচ্ছাচারী শাসনকে বুঝাতেন।)

৩১। হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?

উঃ হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ছয়টি। প্রাকৃতিক আইন; আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষের আদেশ; সামাজিক প্রবণতা; প্রকৃতির আইন; আদালতের রায়; আন্তর্জাতিক চুক্তি।

৩২। ‘POSDCORB’ এর প্রবক্তা কে?

উঃ লুদার গুলিক।

৩৩। ‘Natio’ বা ‘Natus’ শব্দের অর্থ কি?

উঃ ‘জন্ম’ বা ‘বংশ’।

৩৪। সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল’-এরা কোন যুগের দার্শনিক?

উঃ প্রাচীন যুগের দার্শনিক।

৩৫। “রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ইচ্ছাই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব”-ইহা কার উক্তি?

উঃ অধ্যাপক ডব্লিউ, এফ, উইলোবি (Willoughby)-এর।

৩৬। হবস, লক ও রুশো কোন যুগের দার্শনিক?

উঃ আধুনিক যুগের দার্শনিক।

৩৭। ‘রাষ্ট্র’ কি ও রাষ্ট্রের উপাদান কি কি?

উঃ রাষ্ট্র হলো এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন যার নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,

সংগঠিত সরকার, জনসমষ্টি ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে। রাষ্টের

উপাদানগুলো হলো (ক) নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড; (খ) জনসমষ্টি; (গ)

সরকার ও (ঘ) সার্বভৌমত্ব।

৩৮। আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক উৎস কোনটি?

অথবা, “Man is born free but everywhere he is in chains.”-উক্তিটি কার?

উঃ আইনসভা।

অথবা, ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম দার্শনিক কে?

অথবা, সাধারণ ইচ্ছা’ তত্ত্বটি কার?

অথবা, ‘General will’-এর প্রবর্তক কে?

অথবা, রুশোর পুরো নাম কি?

উঃ জ্যা জ্যাকুয়েশ রুশো।

৩৯। “On Liberty”- কার লেখা?

উঃ জন স্টুয়ার্ট মিল-এর লেখা।

৪০। জাতীয়তাবাদ কী?

উঃ কোনো জনসমষ্টিকে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী জাতীয় জীবন

গড়ে তোলার মানসিক চেতনা বা ধারণাকেই জাতীয়তাবাদ বলে।

৪১। প্লেটো তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রে মানবাত্মাকে কয়ভাগে ভাগ করেন?

উঃ তিন ভাগে ভাগ করেন। যথা- ১. প্রজ্ঞা, ২. সাহস ও ৩. প্রবৃত্তি। ৪২। সার্বভৌমত্ব এর অর্থ কি?

উঃ সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও অবিভাজ্য ক্ষমতা, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র নিজের সীমানায় সকলের ওপর কর্তৃত্ব করে এবং অন্য রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত থাকে। সার্বভৌমত্বের অর্থ হলো- রাষ্ট্রের একক, অবিভাজ্য, নিরঙ্কুশ, সর্বশ্রেষ্ঠ ও অবাধ ক্ষমতা।

৪৩। সেন্ট অগাস্টিন কোন দুই রাষ্ট্রের কথা বলেছেন।

উঃ ১. পার্থিব রাষ্ট্র ও ২. স্বর্গরাষ্ট্র বা বিধাতার রাষ্ট্র।

৪৪। “Democracy is a government of the

people by the people and for the people.” উক্তিটি কার?

উঃ আব্রাহাম লিংকনের।

৪৫। অধিকার কি?

উঃ অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এমন কতকগুলো সুযোগ সুবিধা যার উত্তম ব্যবহার দ্বারা ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন করতে সক্ষম হয়।

খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

প্রশ্নউত্তর
১। ম্যাকিয়াভেলীবাদ কী? ১০০%উত্তর দেখুন
২। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও। ১০০%উত্তর দেখুন
৩। সাম্য ও স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ? ১০০%
অথবা, স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলো কি?
উত্তর দেখুন
৪। অধিকার ও কর্তব্য বলতে কী বুঝ? ১০০%উত্তর দেখুন
৫। মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য লেখ। ১০০%উত্তর দেখুন
৬। রুশোর সাধারণ ইচ্ছা কী? ১০০%

অথবা, সাধারণ ইচ্ছা ও সকলের ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য লিখ।
উত্তর দেখুন

উত্তর দেখুন
৭। প্লেটোর দার্শনিক রাজার গুণাবলি আলোচনা কর। ১০০%উত্তর দেখুন
৮। এরিস্টোটলির মতে বিপ্লবের দুটি কারণ লিখ। ১০০%উত্তর দেখুন
৯। রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে পার্থক্য কী? ১০০%উত্তর দেখুন
১০। জাতীয়তাবাদের উপাদানসমূহ কী কী? ৯৯%
অথবা,
জাতি গঠনের উপাদানগুলো আলোচনা কর।
উত্তর দেখুন

উত্তর দেখুন
১১। প্লেটোর সাম্যবাদ/ন্যায়বিচার তত্ত্ব কী? ৯৯%
অথবা,
প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থা বা শিক্ষাতত্ত্ব কী?
উত্তর দেখুন

উত্তর দেখুন
১২। জন লকের সম্পত্তি তত্ত্বের মূল বক্তব্য কী? ৯৯%উত্তর দেখুন
১৩। মানব প্রকৃতি ও প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে হবসের ধারণা কি? ৯৮%উত্তর দেখুন
১৪। এরিস্টোটলের দাসতত্ত্ব কী? ৯৮%
উত্তর দেখুন
১৫। জাতি ও জাতীয়তা কি? এদের মধ্য পার্থক্য দেখাও। ৯৮%উত্তর দেখুন

গ-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)

১। রাষ্ট্রবিজ্ঞান কী? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা কর। ১০০% উত্তর দেখুন

২। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিবর্তনমূলক মতবাদটি আলোচনা কর। ১০০% উত্তর দেখুন

অথবা, রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে সামাজিক চুক্তি মতবাদটি আলোচনা কর।।

৩। রাষ্ট্রচিন্তায় এরিস্টটলের অবদান আলোচনা কর। উত্তর দেখুন

৪। জন লককে কেন আধুনিক গণতন্ত্রের জনক বলা হয়? আলোচনা কর। ১০০% উত্তর দেখুন

৫। মানব প্রকৃতি ও প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে টমাস হবসের ধারণা আলোচনা কর। ১০০% উত্তর দেখুন

৬। স্বাধীনতা কী? গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার রক্ষাকবচসমূহ আলোচনা কর। ১০০% উত্তর দেখুন

৭। প্লেটোর শিক্ষাতত্ত্ব আলোচনা কর। ১০০% উত্তর দেখুন

৮। আইন কী? আইনের উৎসসমূহ আলোচনা কর। ১০০% উত্তর দেখুন

৯। ধর্ম, নৈতিকতা ও রাজনীতি সম্পর্কে ম্যাকিয়াভেলীর ধারণা বিশ্লেষণ কর। ১০০% উত্তর দেখুন

১০। “অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। ৯৯% উত্তর দেখুন

১১। রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায়নের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা কর। ৯৯% উত্তর দেখুন

১২। সমালোচনাসহ প্লেটোর সাম্যবাদ তত্ত্বটি ব্যাখ্যা কর। উত্তর দেখুন

অথবা, এরিস্টোটলের বিপ্লবতত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর। উত্তর দেখুন

১৩। সেন্ট অগাস্টিনের রাষ্ট্রদর্শন আলোচনা কর। ৯৮% উত্তর দেখুন

১৪। আধুনিক রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি আলোচনা কর। ৯৮% উত্তর দেখুন

১৫। সেন্ট টমাস একুইনাসের আইন তত্ত্বটি বর্ণনা কর। ৯৭% উত্তর দেখুন

উপরেরটি ফলো করুন

(ক) বিভাগ অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নাত্তর

১। Political science begins and ends with the state – উক্তিটি কার?
উত্তর: উক্তিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গার্নারর।

২। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যয়নের তিনটি পদ্ধতির নাম লেখ।
উত্তর: ১. পর্যবেক্ষণমূলক পদ্ধতি, ২. পরীক্ষামূলক পদ্ধতি, ৩. দার্শনিক পদ্ধতি।

৩। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে?
উত্তর: নিকোলো মাকিয়াভেলি।

ডিগ্রি সাজেশন ২০২৫ : বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

৪। রাষ্ট্রের উপাদান কতটি?
উত্তর: রাষ্ট্রের উপাদান চারটি।

৫। The Social Contract নামক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তর: জাঁ জ্যাক রুশো।

৬। “আইনের শাসনের আদর্শে আইন” – উক্তিটি কার?
উত্তর: উক্তিটি ডাইসির।

৭। সার্বভৌমত্বের বহিঃস্থর ক্ষমতার সুফল ও রাষ্ট্রের নাম লেখ।
উত্তর: সার্বভৌমত্বের বহিঃস্থ ক্ষমতার সুফল রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো আধুনিক রাষ্ট্রের বার্তা।

৯। আইন এর মাসক কী?

১০। জাতীয়তাবাদের জনক কে?
উত্তর: নিকোলো মাকিয়াভেলি।

১১। Academy কী?
উত্তর: গ্রিক দার্শনিক প্লেটো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম হলো Academy।

১২। The Laws গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: প্রখ্যাত গ্রিক দার্শনিক প্লেটো।

১৩। অ্যারিস্টটলের সর্ববৃহৎ বিষয়ক গ্রন্থটির নাম কী?
উত্তর: “The Politics”।

১৪। The Politics গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: অ্যারিস্টটল।

১৫। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: ভালো প্রশাসন নিশ্চিত কর

১৬। আইনের শাসন কী?

উত্তর: আইনের ধারায় যা বলা হয়েছে সে অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়াকে আইনের শাসন বলে।

১৭। স্বাধীনতার তিনটি রক্ষাকবচ উল্লেখ কর।

উত্তর: ১. গণতন্ত্র, ২. আইনের শাসন, ৩. স্বাধীন বিচার বিভাগ।

১৮। Communist Manifesto গ্রন্থটি কার লেখা?

উত্তর: গ্রন্থটি কার্ল মার্কসের লেখা।

উত্তর: গণতন্ত্র।

১৯। দুই তরবারি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

উত্তর: সেন্ট অগাস্টিন।

২০। ‘Summa Thealogica’ গ্রন্থটির রচায়িতা কে?

উত্তর: সেন্ট টমাস একুইনাস।

২১। মধ্যযুগের এরিস্টটল বলা হয় কাকে?

উত্তর: সেন্ট টমাস একুইনাসকে।

২২।‘Man is born free, but everywhere he is in chain’ — উক্তিটি কার?
উত্তর: জাঁ জ্যাক রুশো।

‘রেনেসাঁ’ অর্থ কী?.

২৩। উত্তর: ‘রেনেসাঁ’ অর্থ পুনর্জন্ম বা নবজাগরণ।

২৪. আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে?

উত্তর: নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি।

২৫. ‘A Prince should combine the qualities of a fox and a lion’ উক্তিটি কার?

উত্তর: উক্তিটি নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির।

২৬. সংসদীয় গণতন্ত্রের জনক কে?

উত্তর: জন লক।

২৭. সম্মতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

উত্তর: জন লক।

২৮. কখন ‘গৌরবময় বিপ্লব’ হয়েছিল?

উত্তর: ১৬৮৮ সালে ইংল্যান্ডে ‘গৌরবময় বিপ্লব’ হয়েছিল।

২৯. রুশোর বিখ্যাত বইটির নাম কী?

উত্তর: “The Social Contract’.

(খ) বিভাগ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

  1. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও।
  2. রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দাও।
  3. সার্বভৌমত্ব কী?
  4. সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
  5. সার্বভৌমত্বের দুটি উপাদানের কী কী?
  6. সমাজ কাকে বলে?
  7. আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দাও।
  8. জাতীয়তাবাদ কী?
  9. প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র কী?
  10. প্লেটোর সাম্যবাদ কী?
  11. বিপ্লব প্রতিরোধে এরিস্টটল যেসব পন্থা উল্লেখ করেছেন সংক্ষেপে আলোচনা কর।
  12. মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য লেখ।
  13. ম্যাকিয়াভেলির ধর্ম ও রাজনীতি সম্পর্কিত মতামত সংক্ষেপে আলোচনা কর।
  14. টমাস হবসের মানব প্রকৃতি ব্যাখ্য কর।
  15. টমাস হবস বর্ণিত প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে আলোচনা কর।
  16. মানব প্রকৃতি সম্পর্কে জন লকের ধারণা কী?
  17. জন লকের সার্বভৌমত্ব তত্ত্ব আলোচনা কর।
  18. রুশোকে সর্বাত্বকবাদী গণতন্ত্র বলা হয় কেন? আলোচনা কর।
  19. সাধারণ ইচ্ছা ও সকলের ইচ্ছার পার্থক্য লেখ।

(গ) বিভাগ রচনামূলক প্রশ্নাবলি

  1. সমাজতন্ত্রসমূহ প্লেটোর শিক্ষা পরিবেশনা তত্ত্ব আলোচনা কর।
  2. প্লেটোর সমাজ ও আর্থিক সাম্যের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।
  3. অ্যারিস্টটলের মতে বিশ্লেষণ কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক আলোচনা কর।
  4. সমাজের সম্পর্ক রাজনৈতিকতন্ত্রের ধারণা আলোচনা করা উচিত কী তার ধারণার সাথে যুক্ত উত্তরণের উপায়গুলি বিশ্লেষণ কর।
  5. দার্শনিক রাষ্ট্র কীভাবে তৈরি হয়? বিশ্লেষণ কর।
  6. সেন্ট থমাস আকুইনাস কীভাবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন?
  7. নৈতিকতার সামর্থ্যের উদ্দেশ্যে কোন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়?
  8. দাসপ্রথা প্রতিষ্ঠানের মানবিক ও পূর্ণাঙ্গতা সম্পর্ক আলোচনা কর।
  9. গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার প্রকৃত গণতন্ত্রের জনক কে হয়? আলোচনা কর।
  10. রাষ্ট্রের সাধারণ বিধি তত্ত্ব ব্যাখ্যা কর।
  11. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও।
  12. রাষ্ট্রবিজ্ঞান কী? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা কর।
  13. রাষ্ট্র কী? আধুনিক রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও বার্যাবলি আলোচনা কর।
  14. রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা কর।
  15. রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিবর্তনমূলক মতবাদটি আলোচনা কর।
  16. জাতীয়তাবাদ কীভাবে সভ্যতার প্রতি হুমকিস্বরূপ? আলোচনা কর।
  17. আন্তর্জাতিক আইন কাকে বলে? আন্তর্জাতিক আইনের উৎসসমূহ আলোচনা কর।
  18. জাতি কাকে বলে? জাতি ও জাতীয়তাবাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
  19. আইন কী? আইনের উৎসসমূহ আলোচনা কর।

(খ) বিভাগ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলির উত্তর

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণা

রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি সমাজবিজ্ঞান যা রাষ্ট্র, সরকার, এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করে। এটি মানুষের রাজনৈতিক কার্যক্রম, প্রতিষ্ঠান, এবং তাদের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা হলো একটি বিদ্যা যা রাষ্ট্র এবং এর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধুমাত্র রাষ্ট্রকে নয়, বরং মানুষের আচরণ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের কৌশলকেও গুরুত্ব দেয়।

রাষ্ট্রের সংজ্ঞা

রাষ্ট্র হলো এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে অধিকার রাখে এবং জনগণের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে। রাষ্ট্রের চারটি মৌলিক উপাদান রয়েছে: জনগণ, ভূখণ্ড, সরকার, এবং সার্বভৌমত্ব। রাষ্ট্রের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে গার্নার বলেন, “রাষ্ট্র হলো মানুষের একটি সংঘবদ্ধ সমাজ যা সার্বভৌম ক্ষমতার অধীনে বাস করে।”

সার্বভৌমত্ব কী?

সার্বভৌমত্ব হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা যা তার ভৌগোলিক সীমার মধ্যে স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ক্ষমতার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নির্দেশ করে। সার্বভৌমত্বের ধারণা সর্বপ্রথম ফরাসি পণ্ডিত জ্যঁ বোদ্যাঁর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্য

সার্বভৌমত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি অবিভাজ্য, স্থায়ী, সার্বজনীন এবং অপরিহার্য। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা নির্দেশ করে যা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। যেমন, সার্বভৌমত্ব অবিভাজ্য হওয়ার কারণে এটি একক এবং অখণ্ড ক্ষমতা হিসেবে থাকে।

সার্বভৌমত্বের দুটি উপাদান

সার্বভৌমত্বের দুটি প্রধান উপাদান হলো:

  1. আভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব: এটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এবং আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নির্দেশ করে।
  2. বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব: এটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সমতার প্রতীক।

সমাজ কাকে বলে?

সমাজ হলো একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন যেখানে মানুষ পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে বাস করে। সমাজের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য পূরণে সংগঠিত। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, “সমাজ হলো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের একটি জটিল নেটওয়ার্ক।”

আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞা

আধুনিক রাষ্ট্র হলো একটি সার্বভৌম রাজনৈতিক সংগঠন যা জনগণের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কাজ করে। এটি সাধারণত একটি সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হয়। আধুনিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো সার্বভৌমত্ব, জনগণ, নির্ধারিত ভূখণ্ড, এবং কার্যকর সরকার।

জাতীয়তাবাদ কী?

জাতীয়তাবাদ হলো এমন একটি মতবাদ যা জাতি ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। এটি একটি জাতির সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি উৎসাহ জোগায়। জাতীয়তাবাদ মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি করে যা একটি রাষ্ট্রের শক্তির মূল উৎস।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র হলো এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা ন্যায়বিচার এবং সাম্য ভিত্তিক। প্লেটো তার গ্রন্থ The Republic-এ আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা দেন, যেখানে শাসকেরা দার্শনিক ও ন্যায়বান হবেন। তার মতে, রাষ্ট্রে তিনটি শ্রেণি থাকবে: শাসক, সৈনিক, এবং শ্রমিক।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও

রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো একটি সমাজবিজ্ঞান যা রাষ্ট্র, সরকার, ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। এটি ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, এবং সামাজিক নিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল নিয়ে কাজ করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের উৎপত্তি, প্রকারভেদ, কার্যক্রম, এবং এর ভবিষ্যৎ রূপান্তর নিয়ে গবেষণা করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা বিভিন্ন পণ্ডিত ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, গার্নার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো রাষ্ট্র এবং সরকারের গবেষণার একটি শাখা।” অপরদিকে, ড. লাস্কি বলেন, “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন কার্যক্রম বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমাজের মৌলিক কাঠামো বুঝতে পারা।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব

রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধুমাত্র রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বা এর কাঠামো বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সমাজের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের উপায়ও নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ:

  1. রাজনৈতিক শিক্ষা প্রদান: রাষ্ট্রবিজ্ঞান মানুষের রাজনৈতিক চেতনা বাড়ায় এবং একটি সুশাসিত সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
  2. নাগরিক দায়িত্ববোধ: এটি নাগরিকদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে।
  3. নীতিমালা তৈরিতে সহায়ক: রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রের জন্য কার্যকর নীতি ও আইন প্রণয়নে সহায়তা করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শাখা

রাষ্ট্রবিজ্ঞান মূলত কয়েকটি শাখায় বিভক্ত। যেমন:

  1. রাষ্ট্রতত্ত্ব: এটি রাষ্ট্রের উৎপত্তি, প্রকৃতি, এবং কাজ নিয়ে আলোচনা করে।
  2. রাষ্ট্র পরিচালনা: এটি প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন শাসনব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।
  3. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: এটি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে।

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান অতীতের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তুলনায় আরও বিস্তৃত। এটি শুধুমাত্র রাষ্ট্র এবং সরকারের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং জনগণের আচরণ এবং সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পদ্ধতিগত গবেষণা, উপাত্ত বিশ্লেষণ, এবং নীতি প্রণয়ন প্রাধান্য পায়।

উপসংহার

রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যা যা রাজনীতি, সরকার, এবং সমাজের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার জন্য অপরিহার্য। এটি আমাদের রাষ্ট্রের কাঠামো ও কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করে এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।


রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দাও

রাষ্ট্র একটি সংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামো, যেখানে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী মানুষ আইন, নীতি এবং শাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রাষ্ট্র একটি সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান যা তার নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে।

রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে

রাষ্ট্রের সংজ্ঞা সম্পর্কে বিভিন্ন পণ্ডিত বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন।

  1. উড্রো উইলসন: “রাষ্ট্র এমন একটি মানুষদের সংগঠন যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে এবং একটি সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অধীন থাকে।”
  2. জে. ডব্লিউ. গার্নার: “রাষ্ট্র একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক সংস্থা যা মানুষ, এলাকা এবং আইন দ্বারা গঠিত।”
  3. ম্যাকআইভার: “রাষ্ট্র হলো এমন একটি মানব সমাজ যা একটি সংগঠিত সরকারের অধীনে আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।”

রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদান

একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য কিছু মৌলিক উপাদান প্রয়োজন। এই উপাদানগুলো হলো:

  1. জনগণ: রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো জনগণ। জনগণ ছাড়া রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
  2. ভৌগোলিক সীমা: একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ভূখণ্ড রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
  3. সরকার: জনগণকে সংগঠিতভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি কার্যকর সরকার প্রয়োজন।
  4. সার্বভৌমত্ব: একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সার্বভৌমত্ব অপরিহার্য।

রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য

রাষ্ট্রের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন:

  1. সংগঠিত প্রতিষ্ঠান: রাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট কাঠামো এবং সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
  2. আইনের শাসন: রাষ্ট্রে আইন সকলের জন্য প্রযোজ্য এবং তা বাধ্যতামূলক।
  3. স্থায়িত্ব: রাষ্ট্র একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান এবং এটি পরিবর্তনশীল নয়।
  4. স্বাধীনতা: একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র সবসময় তার কার্যক্রমে স্বাধীন থাকে।

আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণা

আধুনিক রাষ্ট্র শুধুমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি কল্যাণকামী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটি জনগণের কল্যাণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে।

উপসংহার

রাষ্ট্র একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যা মানুষের জীবনকে সুসংগঠিত এবং নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শুধু আইন ও শাসনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখে না, বরং মানুষের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা সুরক্ষিত করার জন্য কাজ করে।


সার্বভৌমত্ব কী?

সার্বভৌমত্ব হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব, যা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সার্বভৌমত্বের ধারণা

সার্বভৌমত্ব শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘সুপারানাস’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ “সর্বোচ্চ ক্ষমতা।” প্রথমবারের মতো এই ধারণাটি দিয়েছিলেন ফরাসি পণ্ডিত জাঁ বোডাঁ। তিনি সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সার্বভৌমত্বের ধরন

সার্বভৌমত্ব প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত:

  1. আভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব: এটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পূর্ণ কর্তৃত্ব বোঝায়। যেমন আইন প্রণয়ন এবং বিচার।
  2. বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব: এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষমতা নির্দেশ করে।

সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্য

  1. সর্বোচ্চ ক্ষমতা: সার্বভৌমত্ব হলো চূড়ান্ত ক্ষমতা যা অন্য কোনো শক্তির কাছে জবাবদিহি নয়।
  2. অবিভাজ্য: এটি বিভক্ত বা ভাগ করা যায় না।
  3. অপরিবর্তনীয়: সার্বভৌমত্ব একটি স্থায়ী গুণ।
  4. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতে হয়।

আধুনিক সার্বভৌমত্ব

আধুনিক বিশ্বে সার্বভৌমত্বের ধারণা কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। আজকের দিনে রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সংস্থার সদস্য হওয়ার কারণে তাদের কিছু ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়। তবে সার্বভৌমত্বের মূল ধারণা অটুট থাকে।

উপসংহার

সার্বভৌমত্ব হলো একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রধান ভিত্তি। এটি রাষ্ট্রকে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন করে তোলে, যা তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।


সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর

সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যা রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে নির্দেশ করে। এটি রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব নিয়ম ও শাসন প্রণয়ন এবং কার্যকর করার ক্ষমতা দেয়। সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্যগুলো রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব নিশ্চিত করে।

সার্বভৌমত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য

সার্বভৌমত্বের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এটি অন্য ক্ষমতা থেকে পৃথক করে তোলে।

  1. সর্বোচ্চ ক্ষমতা (Supreme Power):
    সার্বভৌমত্ব একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রতীক। এটি অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অধীন নয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে।
  2. অবিভাজ্যতা (Indivisibility):
    সার্বভৌমত্ব বিভাজনযোগ্য নয়। এটি একটি অভিন্ন ক্ষমতা, যা এককভাবে বিদ্যমান থাকে এবং অন্য কোনো শক্তি দ্বারা বিভক্ত হতে পারে না।
  3. অপরিবর্তনীয়তা (Permanence):
    সার্বভৌমত্ব একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য। এটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয় না।
  4. স্বাধীনতা (Independence):
    সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বিষয়গুলোতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। কোনো বিদেশি শক্তি এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
  5. বাধ্যতামূলক ক্ষমতা (Compulsory Authority):
    সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রকে এমন ক্ষমতা দেয়, যার অধীনে প্রণীত আইন এবং নীতি সকল নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক।
  6. স্বয়ংসম্পূর্ণতা (Self-Sufficiency):
    সার্বভৌম রাষ্ট্র নিজস্ব সম্পদ ও ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এবং নিজস্ব শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

আভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব

সার্বভৌমত্বের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:

  1. আভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব (Internal Sovereignty):
    এটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বোঝায়, যেমন আইন প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা, এবং ন্যায়বিচার কার্যকর করা।
  2. বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব (External Sovereignty):
    এটি একটি রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করার স্বাধীনতা নির্দেশ করে। যেমন: চুক্তি স্বাক্ষর করা, যুদ্ধ ঘোষণা করা, এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা।

সার্বভৌমত্বের সীমাবদ্ধতা

আধুনিক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়, যেমন:

  • আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর (জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক) সঙ্গে সহযোগিতা।
  • বিশ্বায়ন এবং বহুপাক্ষিক চুক্তি।

Join Our Facebook Group

উপসংহার

সার্বভৌমত্ব একটি রাষ্ট্রের শক্তি ও স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। এটি রাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ শাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করে। তবে আধুনিক যুগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চুক্তির কারণে সার্বভৌমত্বের ধারণা কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে, যা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে বাড়িয়েছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *