মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অবদান লেখ

মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অবদান লেখ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত…

মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অবদান লেখ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর প্রথম সামরিক ব্রিগেড হিসেবে ‘জেড ফোর্স’-এর অবদান অপরিসীম। এই ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান এবং তাঁর নামের আদ্যক্ষর দিয়েই এই ফোর্সের নামকরণ করা হয় ।

জেড ফোর্সের প্রধান অবদানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. নিয়মিত সামরিক ব্রিগেড গঠন

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই প্রবাসী সরকারের সিদ্ধান্তে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে জেড ফোর্স গঠিত হয় । এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সামরিক ব্রিগেড, যা মূলত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১ম, ৩য় এবং ৮ম ব্যাটালিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছিল । এর ফলে গেরিলা যুদ্ধের পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি ও প্রথাগত (Conventional) সম্মুখযুদ্ধ শুরু করা সম্ভব হয় ।

২. গুরুত্বপূর্ণ সম্মুখযুদ্ধ পরিচালনা

জেড ফোর্স দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (বিশেষ করে ময়মনসিংহ, শেরপুর ও সিলেট অঞ্চলে) অসংখ্য শক্তিশালী অপারেশন পরিচালনা করে । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • কামালপুর বিওপি আক্রমণ: ৩১ জুলাই ১৯৭১ সালে পরিচালিত এই যুদ্ধটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রক্তক্ষয়ী লড়াই। এতে ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দীন মমতাজ শহীদ হন
  • নকশী বিওপি আক্রমণ: আগস্টের শুরুতে শেরপুরের নকশীতে পাকিস্তানি ঘাঁটিতে সাহসী আক্রমণ চালিয়ে শত্রুবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয় জেড ফোর্স ।
  • ঘাসিপুর ও গোয়াইনঘাট যুদ্ধ: সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্তে এসব যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচুর ক্ষতিসাধন করা হয়।

৩. মুক্তাঞ্চল গঠন ও প্রশাসন পরিচালনা

জেড ফোর্স কুড়িগ্রামের রৌমারী এলাকা মুক্ত করার পর সেখানে বাংলাদেশের প্রথম প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করতে সহায়তা করে । এটি ছিল যুদ্ধের সময় একটি বড় কৌশলগত সাফল্য, যা অন্যান্য অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল ।

৪. সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক পদক অর্জন

মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সবচেয়ে বেশি বীরত্বসূচক পদক পেয়েছেন জেড ফোর্সের সদস্যরা [১.২.২, ১.২.৮]। কেবল কামালপুর যুদ্ধের জন্যই এই ফোর্সের বহু সদস্যকে বীর উত্তম, বীর বিক্রমবীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে ।

৫. চূড়ান্ত বিজয়ে ভূমিকা

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ফোর্স সিলেট অঞ্চলকে শত্রুমেুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে । চূড়ান্ত বিজয়ের মুহূর্তে তারা মিত্রবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে ।

জেড ফোর্সের এই ধারাবাহিক আক্রমণ ও কৌশলগত বিজয়গুলোই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *