মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদান লেখ
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদান লেখ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে (১৯৭১) দেশের অভ্যন্তরে…
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদান লেখ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে (১৯৭১) দেশের অভ্যন্তরে যেমন সশস্ত্র সংগ্রাম চলছিল, তেমনি দেশের বাইরে প্রবাসী বাঙালি এবং বিদেশি বন্ধুদের ভূমিকা ছিল অনন্য। তাদের অবদানকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: [1]
১. বিশ্ব জনমত গঠন
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য প্রবাসীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য (লন্ডন) ছিল এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে প্রবাসীরা মিছিল, সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। [2]
২. ‘বাংলাদেশ স্টিয়ারিং কমিটি’ ও তহবিল সংগ্রহ
লন্ডনে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠিত হয়। এই কমিটি এবং বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের আয়ের একটি বড় অংশ ‘বাংলাদেশ ফান্ড’-এ দান করতেন। সংগৃহীত এই অর্থ দিয়ে প্রবাসী সরকারের ব্যয় নির্বাহ এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম কেনা হতো।
৩. কূটনৈতিক তৎপরতা
প্রবাসী বাঙালি পেশাজীবী, ছাত্র এবং সরকারি কর্মকর্তারা (যারা বিদেশে কর্মরত ছিলেন) পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের সরকারের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চালান। [3, 4]
৪. সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ ও কনসার্ট
বিদেশে অবস্থানরত বাঙালি শিল্পীরা গান ও নাটকের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করতেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে পন্ডিত রবি শংকর এবং জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। এটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল। [5, 6]
৫. তথ্য প্রচার ও গণমাধ্যম
প্রবাসীরা বিভিন্ন ভাষায় লিফলেট, প্যামফলেট এবং পত্রিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক খবর প্রচার করতেন। বিবিসি ও আকাশবাণীর মতো বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোতে তথ্য পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো সংবাদ পরিবেশনে তারা সহায়তা করেছিলেন।
সারসংক্ষেপে, প্রবাসীরা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ‘কূটনৈতিক ফ্রন্ট’-এর সৈনিক। তাদের অবদানের কারণেই খুব দ্রুত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি ও সমর্থন পেতে সক্ষম হয়েছিল।




