ম্যানর প্রথা কী?
ম্যানর প্রথা কী? ম্যানর প্রথা ছিল ইউরোপের মধ্যযুগের একটি সামাজিক…
ম্যানর প্রথা কী?
ম্যানর প্রথা ছিল ইউরোপের মধ্যযুগের একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা মূলত সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ভিত্তি গঠন করেছিল। এই প্রথার মাধ্যমে জমির মালিকরা (লর্ড) কৃষকদের (সার্ফ) কাছ থেকে শ্রম ও পরিষেবা গ্রহণ করতেন, এবং এর বিনিময়ে কৃষকরা জমিতে বসবাস ও চাষের সুযোগ পেতেন।
ডিগ্রি পরিক্ষার সকল বিষয়ের সাজেশন ও এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
ম্যানর প্রথার মূল কাঠামো
এটি একটি নির্দিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার কাঠামোর ওপর নির্ভর করত, যেখানে লর্ডদের বিশাল ভূমির মালিকানা থাকত এবং তারা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মাধ্যমে এটি পরিচালনা করতেন। সাধারণত ম্যানরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লর্ডের বাসস্থান বা দুর্গ, যা থেকে পুরো সম্পত্তি নিয়ন্ত্রিত হত।
এই প্রথার অধীনে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে কৃষক ও শ্রমিকরা, জমিদারের জমিতে কাজ করত এবং এর বিনিময়ে তারা সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মৌলিক সুবিধা পেত। সার্ফরা সাধারণত নিজেরা ভূমির মালিক হতেন না, বরং লর্ডের জমিতে কাজ করতেন এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনের একটি নির্দিষ্ট অংশ জমিদারকে দিতে বাধ্য থাকতেন।
ম্যানর প্রথার বৈশিষ্ট্য
১. ভূমি কেন্দ্রিক অর্থনীতি: এটি সম্পূর্ণরূপে কৃষি ভিত্তিক ছিল এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যই প্রধান অর্থনৈতিক উৎস ছিল।
২. সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস: সমাজকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করা হত, যেখানে লর্ড, নাইট, এবং সার্ফদের আলাদা দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল।
৩. আত্মনির্ভরশীলতা: প্রতিটি ম্যানর নিজস্ব কৃষিজ ও কারিগরি উৎপাদনের মাধ্যমে নির্ভরশীল ছিল, বাইরের অঞ্চলের সাথে বাণিজ্য সীমিত ছিল।
৪. আইন ও শৃঙ্খলা: লর্ডদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা ছিল, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ম্যানরের আইন কার্যকর করতেন।
ম্যানর প্রথার পতন
১৫শ শতকের দিকে ইউরোপে কৃষি ও অর্থনীতির পরিবর্তনের ফলে এটির গুরুত্ব কমতে শুরু করে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন বাজার অর্থনীতির উত্থান ঘটে, যা শ্রমিকদের স্বাধীনতার পথ খুলে দেয়। এছাড়া মহামারী, যুদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে কৃষকদের ভূমিকা পরিবর্তিত হয় এবং ম্যানর প্রথা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
উপসংহার
ম্যানর প্রথা ছিল ইউরোপের মধ্যযুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা বহু শতাব্দী ধরে সামন্ততান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি রচনা করেছিল। যদিও এই প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তবে এটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সামন্ততন্ত্রের বিকাশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।