মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ
মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ মুঘল সাম্রাজ্য (১৫২৬-১৮৫৭) ভারতীয় উপমহাদেশে এক…
মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ
মুঘল সাম্রাজ্য (১৫২৬-১৮৫৭) ভারতীয় উপমহাদেশে এক অন্যতম শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য ছিল। তবে এই শক্তিশালী সাম্রাজ্য একসময়ে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পতনের সম্মুখীন হয়। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ বিদ্যমান ছিল।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২য় পত্র এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
১. দুর্বল শাসক ও প্রশাসনিক দুর্বলতা
আওরঙ্গজেবের (১৬৫৮-১৭০৭) মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্যে দুর্বল শাসকদের আবির্ভাব ঘটে। তারা সাম্রাজ্য পরিচালনার দক্ষতা ও দৃঢ়তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হন। দুর্বল প্রশাসনের কারণে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে, যা সাম্রাজ্যের পতনকে ত্বরান্বিত করে।
২. অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও কর ব্যবস্থার অবনতি
মুঘলদের ব্যয়বহুল যুদ্ধ ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কারণে রাজকোষ দুর্বল হয়ে পড়ে। রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
৩. অতিরিক্ত সামরিক ব্যয় ও পরাজয়
মারাঠা, রাজপুত, শিখ এবং আফগানদের সঙ্গে লাগাতার যুদ্ধ মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে ফেলে। বিশেষ করে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তির বড় ধাক্কা দেয়।
৪. ইউরোপীয়দের আগ্রাসন ও ব্রিটিশদের উত্থান
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘলদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ধীরে ধীরে ব্রিটিশরা মুঘলদের ক্ষমতাহীন করে দেয় এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর মুঘল সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক পতন ঘটে।
৫. সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন
মুঘল শাসকদের বিভিন্ন কঠোর নীতি, যেমন আওরঙ্গজেবের হিন্দুদের ওপর জিজিয়া কর আরোপ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছিল। এতে মারাঠা, শিখ ও রাজপুতদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়, যা সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।
উপসংহার
মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ছিল একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণের সমন্বয়ে সংঘটিত হয়। দুর্বল শাসন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, সামরিক পরাজয় এবং ব্রিটিশদের আগ্রাসন মিলে একসময়ের শক্তিশালী এই সাম্রাজ্যকে পতনের দিকে ঠেলে দেয়।