স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন ডিগ্রি ১ম বর্ষ pdf উত্তর সহ
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন ডিগ্রি ১ম বর্ষ pdf উত্তর…

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন ডিগ্রি ১ম বর্ষ pdf উত্তর সহ
বিষয়ঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন (বিষয় কোড: ১১১৫০১)
স্পেশাল সাজেশন ৯৯.৯৯% কমন ইনশাআল্লাহ
ক-বিভাগ (অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন) ১। নিচের যে-কোনো দশটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ক) পূর্ণরূপ লিখ LFO,EBDO, PODO, BAKSAL উঃ LFO এর পূর্ণরূপ হলো- Legal Framework Order. EBDO= Elective Bodies Disqualification Order . PODO= Public Officers Disqualification Order . BAKSAL= Bangladesh Krishok Shromik Awami-league ২। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম কি? উঃ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন হলো- চর্যাপদ। ৩। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন? উঃ অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক। ৪। দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবর্তক কে? উঃ দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন- মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ৫।বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম কি? উত্তর: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন হলো- চর্যাপদ। ৬। আওয়ামী মুসলিম লীগ কখন গঠিত হয়? উঃ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন । ৭। মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ কে জারি করেন? উঃ সামরিক শাসক আইয়ুব খান। ৮। বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোন ভাষা থেকে? উত্তর: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা। ৯।মৌলিক গণতন্ত্রে কাতজনের ভোটাধিকার ছিল? উত্তর: ৮০ হাজার। ১০। মক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ কয়টি সেক্টরে বিভক্ত ছিল? উঃ ১১টি সেক্টরে বিভক্ত ছিল। ১১। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন? উত্তর: তাজউদ্দিন আহমেদ। ১২। পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্র কে চালু করেন? উত্তরঃ সামরিক শাসক আইয়ুব খান। ১৪। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন? উঃ এ. কে. ফজলুল হক। ১৫। অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাবক কে ছিলেন? উঃ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৬। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন যুক্তফ্রন্টের প্রতীক কি ছিল? উঃ নৌকা। ১৭। কোন আইন দ্বারা ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়েছিল? উঃ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা। ১৮। ঐতিহাসিক ছয়দফা কবে, কোথায় ঘোষিত হয়? উঃ ঐতিহাসিক ছয়দফা ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে ঘোষিত হয়। ১৯। মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ খেতাব কি? উঃ মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ খেতাব-বীরশ্রেষ্ঠ। ২১। ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপিত হয় কত সালে? উঃ ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ। ২২। ভাষা আন্দোলনের দুজন শহীদের নাম লিখ। উঃ রফিক ও শফিক। ২৩। পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন কে জারি করেন? উঃ ইস্কান্দার মির্জা। ২৪। বাংলাদেশ সংবিধান কত তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে? উঃ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ২৫। বাকশাল এর পূর্ণরূপ কী? উঃ বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ। ২৬। বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম কী? উঃ বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম মেঘনা (দৈর্ঘ্য ৬৬৯ কি.মি.)। ২৭। অবিভক্ত বাংলার শেষ মূখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন? উত্তরঃ হোসেন শহীদ সোহারাওয়ার্দী ২৮। ভারত স্বাধীনতা আইন কবে পাস হয়? উঃ ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়। ২৯। ‘তমুদ্দুন মজলিস’ কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল? উঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে। ৩০। বাংলাদেশেকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ কোনটি? উঃ ভুটান। ৩২। বাংলাদেশ কবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে? উঃ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। ৩৩। পাকিস্তানের সংবিধানে কখন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়? উঃ ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়। ৩৪। পদ্মা নদী কোথায় মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে? উঃ চাঁদপুরে। ৩৫। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়? উঃ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ৩৬। জাতিসংঘের কোন সংস্থা ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে? উঃ ইউনেস্কো। ৩৭। কখন মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করা হয়? উঃ ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর। ৩৮। আগরতলা স্বরযন্ত্র মামলায় কত জন আসামী ছিল ? উঃ ৩৫ জন (প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ)। ৩৯। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে কয়টি আসন লাভ করে? উঃ ১৬৭ টি আসন লাভ করে। ৪০। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণে কি ঘোষণা করেন? উঃ “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” ৪১। অপারেশন সার্চলাইট’ কি? উঃ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার সাংকেতিক নাম হলো-অপারেশন সার্চলাইট । ৪২। ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলাদেশকে কতটি ভাগে ভাগ করা যায়? উঃ ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। ৪৩। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় কখন? উঃ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে। ৪৪। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন? উঃ শেখ মুজিব । ৪৫। মুজিবনগর সরকার কখন গঠিত হয়? উঃ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ৪৬। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম কবে উত্তোলিত হয়? উঃ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ৪৭। বঙ্গভঙ্গ কখন হয়? উঃ বঙ্গভঙ্গ হয় ১৯০৫ সালে। ৪৮। বাংলাদেশ কবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে? উত্তর: ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। |
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন
খ বিভাগ
(যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
মান-৪*৫=২০
প্রশ্ন | উত্তর |
১। সাম্প্রদায়িকতা কী? [What is communalism?] | উত্তর |
২। ছয়-দফা আন্দোলনকে কেন রাঙালির ‘ম্যাগনাকাটা করা হয়? Why is six-points movement called the “Magnacarta” of the Bangalees?] | উত্তর |
৩। ১৯৬৯ গনঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য কী ছিল? [What was the aim of the mass upsurge of 1969?] | উত্তর |
৪। দ্বি-জাতি তত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর। | উত্তর |
৫। মুজিব নগর সরকার সম্পর্কে লিখ | উত্তর |
৬। ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব লেখ। [Write down the importance of the Language Movement.] | উত্তর |
৭। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের উপর একটি টীকা লেখ। [Write a short note about the killing of intellectuals in the Liberation War.] | উত্তর |
৮। বাংলাদেশের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লিখ ।*** | উত্তর |
৯। বাঙ্গালী সংকর জাতি ব্যাখ্যা কর *** | উত্তর |
১০। বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি কী? *** (What is Basu-Suhrawardi pact?) | উত্তর |
১১। যুক্তফ্রন্ট কেন গঠিত হয়েছিল?*** | উত্তর |
১২। মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে টীকা লেখ। (Write a short note on the Mujibnagar Government.) | উত্তর |
১৩। লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কি ছিল? (What was the main theme of the lahore resolution?) | উত্তর |
১৪। মৌলিক গনতন্ত্র প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলো লিখ। | উত্তর |
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন
গ বিভাগ
১। বাংলাদেশের সমাজ ও জনগোষ্ঠীর উপর ভূপ্রকৃতির প্রভাব আলোচনা কর। ১০০% উত্তর [Discuss the impact of the geographical features on the society and people of Bangladesh.]
২। অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা কর। এ পরিকনা ব্যর্থ হয়েছিল কেন? ১০০% উত্তর [Explain the proposal of the undivided independent Bengal. Why this proposal was failed?]
৩। আওয়ামী মুসলিম লীগের গঠনের পটভূমি ব্যাখ্যা কর। উত্তর
[Explain the background of the formation of Awami Muslim League.]
৪। ৬-দফা কর্মসূচির ব্যাখ্যা কর। উত্তর
[Explain the six points program of 1966.]
৫। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। ১০০% উত্তর
[Analyze the importance of the election of 1970.]
৬ । ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব মূল্যায়ন কর। উত্তর
[Assess the importance of the historic address of Bangabandhu in 7 March.]
৭। মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান বিশ্লেষণ কর। ১০০% উত্তর
[Analyze the contributions of the women in the War of Liberation.]
৮ । ১৯৭২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহের একটি বর্ণনা দাও।১০০% উত্তর
[Give an account of the main features of the constitution of 1972.]
৯। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পটভূমি আলোচনা কর। ১০০% উত্তর
(Discuss the background of the partition of Indian in 1947 )
১০। আগরতলা মামলার কারণ ও ফলাফল বর্ণনা কর। ১০০% উত্তর
১১। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিবরণ দাও। উত্তর
১২। ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর। ১০০% উত্তর
১৩। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির বর্ণনা কর। ১০০% উত্তর
১৪ । ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কারণ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। ১০০% উত্তর
১৫। ১৯৬৬ সালের ছয়-দফা আন্দোলনের পটভূমি ও গুরুত্ব সম্পর্কে লিখ। উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সাজেশন এর উত্তর
খ বিভাগ এর উত্তর
১. সাম্প্রদায়িকতা কী?
সাম্প্রদায়িকতা বলতে এক সম্প্রদায়ের প্রতি অন্য সম্প্রদায়ের অবিশ্বাস, বিদ্বেষ এবং শত্রুতাপূর্ণ মনোভাবকে বোঝায়। এটি সাধারণত ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করে। সাম্প্রদায়িক মনোভাব একটি সমাজে সংঘাত, দাঙ্গা এবং বিভাজনের জন্ম দেয়। বিশেষত উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার উৎপত্তি ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার সময়ে দেখা গিয়েছিল, যখন শাসকেরা বিভাজন নীতির মাধ্যমে জনগণকে বিভক্ত রাখে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িকতা বহুবার চরম আকার ধারণ করেছে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পেছনে সাম্প্রদায়িকতার বড় ভূমিকা ছিল। তৎকালীন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক ধর্মীয় ভাবধারা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়িয়ে তোলে। সাম্প্রদায়িকতার ফলে সমাজে ঐক্য ও শান্তি বিঘ্নিত হয় এবং এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
এ কারণে সাম্প্রদায়িকতা একটি অবাঞ্ছিত সামাজিক ব্যাধি যা একটি বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক দেশের সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির জন্য হুমকি। এটি দমন করতে সহনশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার চর্চা জরুরি।
২. ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব লেখ।
ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি ছিল বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ বিশেষত শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক নেতারা প্রতিবাদে সোচ্চার হন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের ফলে ১৯৫৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব:
১. এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদকে উজ্জীবিত করে।
২. এ আন্দোলন ভবিষ্যতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে।
৩. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
৪. ভাষা আন্দোলন সাংস্কৃতিক চেতনা ও গৌরবের প্রতীক।
ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক অর্জন যা আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা বলে গণ্য হয়।
৩. যুক্তফ্রন্ট গঠনের কারণ কী?
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রধান কারণ ছিল তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকারের ব্যর্থতা এবং বাঙালিদের অধিকারহীনতা। মুসলিম লীগ সরকার পশ্চিম পাকিস্তানকে প্রাধান্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্বার্থকে অবহেলা করছিল।
গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহ:
১. অর্থনৈতিক শোষণ: পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ লুট করে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন করা হচ্ছিল।
২. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিকে উপেক্ষা করা হয়।
৩. মৌলিক অধিকার খর্ব: জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি।
৪. রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব: মুসলিম লীগের শাসনে দুর্নীতি ও অযোগ্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
এ অবস্থায় আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, গণতান্ত্রিক দল এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ঐক্যবদ্ধভাবে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে। তাদের ২১ দফা দাবির মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং শোষণ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
৪. কেন ছয় দফা আন্দোলনকে ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়?
ছয় দফা আন্দোলনকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয় কারণ এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।
ছয় দফার গুরুত্ব:
১. এটি বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি প্রতিষ্ঠা করে।
২. ছয় দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক শোষণ বন্ধের কথা বলে।
৩. এটি কেন্দ্রের একচেটিয়া ক্ষমতার বিপরীতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতের পথ দেখায়।
৪. ছয় দফা আন্দোলনই ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে।
এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সনদ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
৫. ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য কী ছিল?
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থা এবং সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা। আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, ছয় দফা আন্দোলনের দমন-পীড়ন এবং শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে ফেটে পড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যসমূহ:
১. ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন।
২. আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অবসান।
৩. গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৪. বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ বন্ধ।
এ আন্দোলনে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্রসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
৬. মুজিবনগর সরকারের উপর সংক্ষিপ্ত নোট লেখ।
মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়। ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গঠন:
- রাষ্ট্রপতি: শেখ মুজিবুর রহমান (অনুপস্থিত)
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ
- উপ-প্রধানমন্ত্রী: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- মন্ত্রিসভার সদস্য: এ এইচ এম কামারুজ্জামান, এম মনসুর আলী
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং শরণার্থীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭. বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের উপর একটি টীকা লেখ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
হত্যার কারণ:
১. বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা দমন।
২. মেধাশূন্য বাংলাদেশ তৈরি করা।
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরের রায়েরবাজার ও মিরপুরে চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক,
সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশার বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড ছিল স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাঙালির জন্য এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।