মজলিশ-উশ-শূরা কি?
মজলিশ-উশ-শূরা: সংজ্ঞা ও গুরুত্ব মজলিশ-উশ-শূরা একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ…
মজলিশ-উশ-শূরা: সংজ্ঞা ও গুরুত্ব
মজলিশ-উশ-শূরা একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো ‘পরামর্শ পরিষদ’ বা ‘শূরা পরিষদ’। এটি একটি ইসলামী শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মূলত শাসকের পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করে। ইসলামের ইতিহাসে, বিশেষত খিলাফত যুগে, মজলিশ-উশ-শূরা ছিল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
মজলিশ-উশ-শূরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই পরামর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“তারা পরস্পরের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের কাজ পরিচালনা করে।” (সূরা আশ-শূরা: ৩৮)
এই নির্দেশনার ভিত্তিতে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর জীবনকালেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহাবিদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগেও মজলিশ-উশ-শূরা ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা, যা ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য ভূমিকা রাখত।
Degree 1st Year Suggestion 2025
মজলিশ-উশ-শূরার কার্যক্রম
মজলিশ-উশ-শূরা সাধারণত রাষ্ট্র বা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গঠিত হয়। এর কার্যক্রম নিম্নলিখিত দিকগুলোতে কেন্দ্রীভূত:
- রাষ্ট্র পরিচালনার পরামর্শ প্রদান: শাসকের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরামর্শ দেওয়া।
- আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তন: শরিয়াহভিত্তিক আইন তৈরি ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুপারিশ করা।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: জনগণের অধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য নীতি নির্ধারণ।
- অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন: কর, বাজেট ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের দিকনির্দেশনা প্রদান।
- অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য পরামর্শ দেওয়া।
আধুনিক বিশ্বে মজলিশ-উশ-শূরার প্রভাব
বর্তমানে বিভিন্ন মুসলিম দেশে মজলিশ-উশ-শূরা নানা রূপে প্রচলিত। সৌদি আরবে ‘শূরা কাউন্সিল’ নামে একটি পরিষদ রয়েছে, যা রাজাকে পরামর্শ প্রদান করে। ইরানে ‘মজলিশ’ নামে একটি আইনসভা রয়েছে, যা দেশের আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও সংসদীয় ব্যবস্থায় পরামর্শমূলক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে শূরার ধারণা বজায় রয়েছে।
মজলিশ-উশ-শূরার গুরুত্ব
১. গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ: ইসলামিক পরামর্শব্যবস্থা জনগণের মতামত গ্রহণকে উৎসাহিত করে। ২. ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ: শাসকের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে যৌথ পরামর্শে আইন ও নীতি নির্ধারণ হয়। ৩. নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ: ইসলামী আদর্শের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৪. জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ: নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কাজে জনগণের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করে।
উপসংহার
মজলিশ-উশ-শূরা ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক ধারণা, যা শাসন ও প্রশাসনে ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। এটি কেবল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আধুনিক যুগেও ইসলামী রাষ্ট্রপরিচালনার একটি আদর্শ মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। যথাযথভাবে মজলিশ-উশ-শূরা পদ্ধতি অনুসরণ করলে শাসনব্যবস্থায় ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।