বাংলাদেশে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং রাজনৈতিক অর্থনীতি

বাংলাদেশে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং রাজনৈতিক…

বাংলাদেশে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং রাজনৈতিক অর্থনীতি

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার শাসনব্যবস্থা মূলত গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক কেন্দ্রীকরণের মধ্যে একটি চলমান দ্বন্দ্বের ফসল। যদিও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো (এলজিআই) সাংবিধানিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত এবং প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা হিসেবে কাজ করার জন্য ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত, তবুও ঐতিহাসিকভাবে তাদের বাস্তব কার্যক্রম কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থের অধীনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পর পর আসা জাতীয় সরকারগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকেন্দ্রীকরণকে কেবল একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে, অন্যদিকে স্থানীয় কাঠামোর ওপর তাদের কঠোর আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এই কাঠামোগত দ্বন্দ্ব একটি স্বনির্ভর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং গ্রামীণ সংস্থাগুলোকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক তদারকি ও আর্থিক বরাদ্দের ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল করে তুলেছে।   

২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান প্রশাসনিক বিন্যাসের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা রূপান্তরকালীন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ব্যাপক অপসারণ, আমলাতান্ত্রিক প্রশাসকদের অন্তর্বর্তীকালীন নিযুক্তি এবং ২০২৬-পরবর্তী প্রশাসনের অধীনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচনী বৈধতা এবং কাঠামোগত সংস্কারের বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।   

সাংবিধানিক ভিত্তি এবং বিকেন্দ্রীকরণের কাঠামোগত অমিল

বাংলাদেশের সংবিধানে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের তৃতীয় পরিচ্ছেদে স্থানীয় শাসনের কাঠামো, ক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক গুরুত্বের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।   

  • अनुচ্ছেদ ৯: স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে রাষ্ট্র কৃষক, শ্রমিক এবং নারীদের বিশেষ প্রতিনিধিত্বসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহিত করবে।   
  • अनुচ্ছেদ ১১: প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে এবং প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।   
  • अनुচ্ছেদ ৫৯(১): আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থাসমূহের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হবে।   
  • अनुচ্ছেদ ৫৯(২): সংবিধান ও অন্য যেকোনো আইনের সাপেক্ষে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো তাদের নিজ নিজ এলাকার প্রশাসনিক কাজ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবামূলক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।   
  • अनुচ্ছেদ ৬০: অনুচ্ছেদ ৫৯-এর বিধানাবলীকে পূর্ণ কার্যকরতা দানের উদ্দেশ্যে সংসদ আইনের দ্বারা স্থানীয় সরকার সংস্থাসমূহকে স্থানীয় উদ্দেশ্যে কর আরোপের ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করবে।   

এই সাংবিধানিক বিধান থাকা সত্ত্বেও, গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজে-কলমে থাকা স্বায়ত্তশাসন এবং বাস্তব কার্যকারিতার মধ্যে একটি বড় ধরনের অমিল রয়েছে। এই ব্যবধানের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে।   

প্রথমত, অনুচ্ছেদ ৫৯(২)-এ উল্লিখিত “সংবিধান ও অন্য কোনো আইন সাপেক্ষে” শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে জাতীয় সংসদ এমন সব আইন পাস করতে পেরেছে যা নির্বাচিত স্থানীয় সংস্থাগুলোর কার্যকারিতাকে সংকুচিত করে ফেলে। ফলস্বরূপ, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় নির্বাহী বিভাগের একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়, যা মূলত মন্ত্রণালয়গুলোর বিভিন্ন নির্দেশনা ও প্রশাসনিক পরিপত্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।   

দ্বিতীয়ত, ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের বাধ্যতামূলক “উপদেষ্টা” করা হয়েছে। বাস্তবে এই উপদেষ্টার ভূমিকা একটি ভেটো ক্ষমতার মতো কাজ করে, কারণ সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সংসদ সদস্যের লিখিত সম্মতি ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করা যায় না। এই বিধيدية বাধ্যবাধকতা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের কর্তৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের অধীনে এনে দাঁড় করিয়েছে।   

তৃতীয়ত, মাঠ প্রশাসনের অতি-কেন্দ্রীকরণ—বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)—নিবাচিত স্থানীয় পরিষদের ক্ষমতাকে প্রায়শই সংকুচিত করে তোলে। সিভিল সার্ভিস বা আমলাতন্ত্র স্থানীয় বাজেট, নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জনবলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, যার ফলে নির্বাচিত পরিষদগুলো কাঠামোগতভাবে আমলাদের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হয়।   

গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের ঐতিহাসিক বিবর্তন

বাংলাদেশে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের বর্তমান রূপটি মূলত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তান আমলের পরিবর্তন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী নানাবিধ পরীক্ষানিরীক্ষার ফল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আগে বাংলা বদ্বীপের গ্রামগুলোতে ‘পঞ্চায়েত’ নামক অত্যন্ত স্বায়ত্তশাসিত ও স্বনির্ভর গ্রামভিত্তিক পরিষদ ছিল। গ্রামীণ প্রবীণদের নিয়ে গঠিত এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যৌথ সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করত। তবে এই সংস্থাগুলোর কোনো বিধিবদ্ধ আইনি ভিত্তি ছিল না এবং এগুলো রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে কাজ করত।   

formal স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ শুরু হয় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে, যার মূল লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক সুবিধা এবং গ্রামীণ সম্পদ আহরণ। তুর্কী-আফগান এবং মোগল আমলে রাজস্ব প্রশাসন অনেকটাই কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করলেও, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তী ক্রাউন প্রশাসন ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। ১৮৭০ সালে ঔপনিবেশিক সরকার গ্রামীণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে এবং চৌকিদারদের বেতন দেওয়ার জন্য স্থানীয় কর সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘বেঙ্গল ভিলেজ চৌকিদারি আইন’ প্রণয়ন করে ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘চৌকিদারি পঞ্চায়েত’ গঠন করে। পাঁচ সদস্যের এই পঞ্চায়েত জেলা প্রশাসক (তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) দ্বারা তিন বছরের জন্য নিযুক্ত হতো এবং এর মূল কাজ ছিল গ্রামীণ পুলিশ রক্ষা ও কর আদায় করা। এটি মূলত স্থানীয় অভিজাতদের সহযোগিতায় ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণকে দীর্ঘস্থায়ী করার একটি প্রচেষ্টা ছিল।   

পরবর্তী সময়ে ১৮৮৫ সালের ‘বেঙ্গল লোকাল সেলফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট’ এবং ১৯১৯ সালের ‘বেঙ্গল ভিলেজ সেলফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট’ এর মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কাঠামো প্রবর্তন করা হয়, যেখানে নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়। ১৯১৯ সালের আইনের অধীনে ইউনিয়ন বোর্ড ও জেলা বোর্ড গঠন করা হয় এবং পূর্বের তিন-স্তরের কাঠামো বিলুপ্ত হয়। ইউনিয়ন বোর্ড ৬ থেকে ৯ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হতো, যার দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত এবং এক-তৃতীয়াংশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মনোনীত হতেন; পরবর্তীতে তারা নিজেদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করতেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের আগ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু ছিল।   

পাকিস্তান আমলে (১৯৪৭-১৯৭১) স্থানীয় সরকারকে মূলত একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা সুসংহত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির পর জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালে ‘বেসিক ডেমোক্রেসিস অর্ডার’ (মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ) জারি করেন। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে চার স্তরবিশিষ্ট একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়: ইউনিয়ন কাউন্সিল, থানা কাউন্সিল, জেলা কাউন্সিল এবং বিভাগীয় কাউন্সিল। গড়ে ১০,০০০ জনসংখ্যার জন্য একটি ইউনিয়ন এবং ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন কাউন্সিল গঠিত হতো; প্রথম দিকে এর এক-তৃতীয়াংশ মনোনীত হলেও ১৯৬২ সালের সংবিধানের পর মনোনয়ন প্রথা বাতিল করে এটি সম্পূর্ণ নির্বাচিত সংস্থায় রূপান্তরিত হয়। থানা কাউন্সিল গঠিত হতো নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে, যেখানে কর্মকর্তাদের সংখ্যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চেয়ে বেশি হতে পারত না। জেলা কাউন্সিলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং সব নির্বাহী ক্ষমতা তাঁর হাতে ন্যস্ত ছিল।   

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো গ্রামীণ পর্যায়ে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার জন্য স্থানীয় সরকারের কাঠামো বারবার পরিবর্তন করে। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তানি ইউনিয়ন কাউন্সিল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে এবং দলীয় কর্মীদের সমন্বয়ে সরকার মনোনীত ‘ইউনিয়ন পঞ্চায়েত’ ও ‘ইউনিয়ন ত্রাণ কমিটি’ গঠন করে। এই প্রচেষ্টার পর জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে ১৯৭৬ সালে ‘লোকাল গভর্নমেন্ট অর্ডিন্যান্স’ জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়: ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ। এই ব্যবস্থায় ভাইস চেয়ারম্যান পদটি বিলুপ্ত করা হয় এবং চারজন মনোনীত সদস্য (দুইজন নারী এবং দুইজন কৃষক) যুক্ত করা হয়, এবং মহকুমা প্রশাসককে (এসডিও) ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর ভেটো প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়।   

পরবর্তী সময়ে এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮২ সালে থানাগুলোকে ‘উপজেলায়’ উন্নীত করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলা পরিষদ গঠন করা হয়। এই পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা সরাসরি নির্বাচিত একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের হাতে ন্যস্ত করা হয় এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এর পদাধিকারবলে সদস্য হন। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়া সরকারের আমলে এই উপজেলা পরিষদ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন পুনরায় আমলাতান্ত্রিক থানা কাঠামোতে ফিরে যায়।   

১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে গঠিত স্থানীয় সরকার কমিশন একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থার প্রস্তাব করে: গ্রাম পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা/উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ। যদিও ১৯৯৮ সালে উপজেলা পরিষদ আইন পাস হয়েছিল, তবে সে সময় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গ্রাম পরিষদ গঠনের বিষয়টি হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে আইনি জটিলতায় পড়ে এবং বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) ‘গ্রাম সরকার আইন ২০০৩’ পাস হলেও সুপ্রিম কোর্ট এটিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।   

২০০৬-২০০৮ সালের ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারি করে এবং ছবিসহ ডিজিটাল ভোটার তালিকা তৈরি করে। এই অধ্যাদেশগুলোর ওপর ভিত্তি করে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং পূর্ববর্তী ১৯৯৮ সালের আইনটি কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় কার্যকর করা হয়।   

তিন-স্তরবিশিষ্ট গ্রামীণ স্থানীয় সরকার কাঠামো

can বাংলাদেশের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বর্তমানে একটি তিন-স্তরবিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোতে বিন্যস্ত। এই কাঠামোর তিনটি স্তর হলো: জেলা (জিলা), উপজেলা এবং ইউনিয়ন।   

নিচের সারণিতে এই তিনটি স্তরের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

সুশাসনের দিকসমূহইউনিয়ন পরিষদ (সর্বনিম্ন স্তর)উপজেলা পরিষদ (মধ্যবর্তী স্তর)জেলা পরিষদ (সর্বোচ্চ স্তর)
আইনি ভিত্তিস্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ (২০০৯ সালে সংশোধিত)জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ (২০১৬ সালে সংশোধিত)
ওয়ার্ড কাঠামো৯টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৩টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডকোনো সরাসরি ওয়ার্ড নেই; ইউনিয়ন ও পৌরসভার সীমানা নিয়ে গঠিত১৫টি সাধারণ নির্বাচনী ওয়ার্ড এবং ৫টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড
গঠন• ১ জন সরাসরি নির্বাচিত চেয়ারম্যান
• ৯ জন সরাসরি নির্বাচিত ওয়ার্ড সদস্য
• ৩ জন সরাসরি নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য
• ১ জন সরাসরি নির্বাচিত চেয়ারম্যান
• ২ জন সরাসরি নির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান (১ জন নারী)
• পদাধিকারবলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র
• ১ জন চেয়ারম্যান (পরোক্ষভাবে নির্বাচিত)
• ১৫ জন নির্বাচিত সাধারণ সদস্য
• ৫ জন নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য
নির্বাচনী প্রক্রিয়াপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি ভোটে ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতিতেশীর্ষ নির্বাহী পদের জন্য সরাসরি ভোট; নিচের স্তরের প্রতিনিধিদের জন্য পদাধিকারবলে সদস্যপদস্থানীয় সরকারের নিম্ন স্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে পরোক্ষ ভোট
নির্বাহী নিয়ন্ত্রণনির্বাচিত চেয়ারম্যানের হাতে ন্যস্ত, যিনি একজন সরকারি সচিব দ্বারা সহায়তাপ্রাপ্ত হননির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মধ্যে যৌথভাবে অংশীদারত্বচেয়ারম্যানের হাতে ন্যস্ত, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত
স্থায়ী কমিটিপ্রতি দুই মাসে অন্তত একবার অনুষ্ঠিতব্য ১৩টি সংবিধিবদ্ধ স্থায়ী কমিটি১৪টি obligatoire কমিটি (আইন-শৃঙ্খলা, অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি)জেলা অবকাঠামো ও গণপূর্ত কাজের তদারকির জন্য গঠিত স্থায়ী কমিটি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউনিয়ন কাউন্সিল)

গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করে, যার জনসংখ্যা ও আয়তন এলাকাভেদে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। দেশের কিছু ইউনিয়ন পরিষদ মাত্র ৫,০০০ জনসংখ্যা পরিচালনা করে, যেখানে বৃহত্তম ইউনিয়ন পরিষদের জনসংখ্যা ৪,৭৫,০০০ ছাড়িয়ে যায়। ২০১০ সালে ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৩ ধারা সংশোধন করে পূর্ববর্তী ১০% জনসংখ্যার তারতম্যের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়, যার ফলে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণে জনসংখ্যাভিত্তিক ভারসাম্য আনা সহজতর হয়েছে।   

২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ১৩টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। অর্থ ও সংস্থাপন, অডিট ও হিসাব, কৃষি এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত এই কমিটিগুলো প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার বৈঠকে মিলিত হতে হয়। এছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘ওয়ার্ড সভা’ গঠনের বিধান রয়েছে, যেখানে এলাকার সমস্ত নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। বছরে অন্তত দুইবার অনুষ্ঠিতব্য এই ওয়ার্ড সভায় ৫% ভোটারের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হয় এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তবে জনসচেতনতার অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই অংশগ্রহণমূলক ফোরামগুলো খুব একটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে না।   

উপজেলা পরিষদ (উপজেলা কাউন্সিল)

উপজেলা পরিষদ একটি তীব্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানদের সাথে নির্বাহী ক্ষমতা শেয়ার করেন। আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদের সমস্ত খরচ মেটাতে চেয়ারম্যান এবং ইউএনও-র যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।   

উপজেলা পরিষদকে ১৮টি হস্তান্তরিত সরকারি বিভাগের কাজ তদারকির জন্য স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হয়। এই কমিটিগুলো স্থানীয় সমাজসেবা, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন তদারকি করে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সংবিধিবদ্ধ ‘উপদেষ্টা’ ভূমিকার কারণে উপজেলা পরিষদের স্বায়ত্তশাসন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, যা প্রায়শই সম্পদ বরাদ্দ এবং প্রকল্প গ্রহণে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে।   

জেলা পরিষদ (জেলা কাউন্সিল)

গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনের সর্বোচ্চ স্তর জেলা পরিষদ ঐতিহাসিকভাবে কোনো সরাসরি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ছাড়াই পরিচালিত হয়ে এসেছে। ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন পাস হলেও তা প্রায় এক দশক নিষ্ক্রিয় ছিল। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সরকার জেলা পরিষদগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দেয়, যা জনগণের সরাসরি ভোটের অনুপস্থিতিতে পরিচালিত হতো।   

২০১৬ সালে আইন সংশোধন করে জেলা পরিষদের জন্য পরোক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা (ইলেক্টোরাল কলেজ) প্রবর্তন করা হয়, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্য এবং পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলররা ভোটার হিসেবে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচিত করেন। এই ব্যবস্থার অধীনে ২০১৭ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক (ডিসি) জেলার মূল প্রশাসনিক সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন এবং জেলা পরিষদের পূর্ত কাজ ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।   

বিশেষ শাসন ব্যবস্থা: পার্বত্য চট্টগ্রাম (CHT)

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা—রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি—একটি বিশেষ স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। ১৯৮৯ সালের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন এবং পরবর্তী সংশোধনী অনুযায়ী এই পরিষদগুলো গঠিত হয়। প্রতিটি পরিষদে ১ জন চেয়ারম্যান, ১০ জন উপজাতীয় সদস্য এবং ২০ জন অ-উপজাতীয় সদস্য থাকেন। চেয়ারম্যান অবশ্যই উপজাতীয় সম্প্রদায় থেকে নির্বাচিত হতে হবে এবং তিনি নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান হিসেবে কাজ করেন।   

অঞ্চলের জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্য উপজাতীয় আসনগুলো বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে কোটা অনুযায়ী বণ্টন করা হয়, যা নিচের সারণিতে দেখানো হলো:

উপজাতীয় জাতিগোষ্ঠীপার্বত্য জেলা পরিষদে বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা
চাকমা10
মারমা4
তঞ্চঙ্গ্যা2
ত্রিপুরা1
লুসাই1
পাংখোয়া1
খিয়াং1

১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির পর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘকাল ধরে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবং সরকার কর্তৃক মনোনীত প্রশাসকদের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করায় এই পরিষদগুলোর গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল রয়ে গেছে।   

আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ, নিজস্ব রাজস্ব আয় এবং আর্থিক নির্ভরশীলতা

can বাংলাদেশের গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তাদের আর্থিক অনুন্নয়ন এবং কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক নির্ভরশীলতা। স্থানীয় পর্যায়ের মোট ব্যয় দেশের জাতীয় জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।   

জিডিপির শতাংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারের ব্যয়≈1.1%বনামউন্নয়নশীল দেশের গড়≈19.0%

বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের মোট ব্যয় জিডিপির মাত্র 1.1%। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের মোট সরকারি ব্যয়ের মাত্র 7.0% থেকে 8.0% খরচ করতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় ব্যয়ের (19.0%) তুলনায় অনেক কম। ফলে নিজস্ব আয়ের অভাব এবং কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর চরম নির্ভরশীলতার কারণে স্থানীয় পরিষদগুলো স্বাধীনভাবে কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে না।   

নিচের সারণিতে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের আয়ের প্রধান খাতসমূহ উল্লেখ করা হলো:

স্থানীয় সরকারের স্তরআয়ের প্রাথমিক উৎস ও রাজস্ব খাতসংগ্রহ পদ্ধতি এবং বিধিবদ্ধ বরাদ্দবাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান সীমাবদ্ধতা
ইউনিয়ন পরিষদ• বসতবাড়ির বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর হোল্ডিং ট্যাক্স
• জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন ফি
• স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর ট্রেড লাইসেন্স
• অ-যান্ত্রিক যানবাহনের ওপর কর
সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ও সংগৃহীত হয়• elected প্রতিনিধিরা জনপ্রিয় হারানোর ভয়ে কর আদায়ে অনীহা প্রকাশ করেন
• দুর্বল কর মূল্যায়ন ও আদায়ের ব্যবস্থার কারণে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা
উপজেলা পরিষদ• স্থানীয় হাট-বাজারের ইজারার অংশ
• ফেরিঘাট, খাল ও জলাশয়ের জলমহাল থেকে টোল আদায়
• স্থানীয় পেশা ও বিনোদনের ওপর সারচার্জ
বার্ষিক নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয় এবং অর্থ উপজেলা তহবিলে জমা হয়• রাজস্ব উৎসগুলো প্রায়শই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়
• আয়ের সিংহভাগ উন্নয়ন কাজের চেয়ে প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতেই শেষ হয়
জেলা পরিষদ• জেলাভুক্ত জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর করের অংশ
• জেলা পরিষদ চালিত সড়ক, ফেরি ও সেতুর ওপর টোল
• জেলা পরিষদের সম্পত্তি, বাণিজ্যিক দোকান ও ডাকবাংলোর ভাড়া
জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা বা নিলামের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়• করের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় উন্নয়ন কাজের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হয়
• ইউনিয়ন ও উপজেলার সাথে ইজারার সীমানা নিয়ে প্রায়শই বিরোধ বাধে

যেহেতু স্থানীয় কর সংগ্রহের পরিধি অত্যন্ত সীমিত, তাই স্থানীয় সরকারগুলো মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) এবং মন্ত্রণালয়গুলোর বিশেষ অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এই মডেলের কারণে স্থানীয় সরকারগুলোর ব্যয়ের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, কারণ অধিকাংশ অর্থ নির্দিষ্ট খাতের জন্য বরাদ্দ থাকে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং গ্রাম পুলিশের বেতনের সিংহভাগ সরকার প্রদান করার ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাই লোপ পায়।   

লিঙ্গ গতিশীলতা, সংরক্ষিত আসন এবং বর্জনের রাজনীতি

dynamic গ্রামীণ স্থানীয় সরকারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে এবং বিভিন্ন আইনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনে নারীদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের সব স্তরেই ৩৩% আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।   

আইনগতভাবে প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পেলেও গ্রামীণ রাজনীতিতে নারীদের কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানাবিধ কাঠামোগত ও সামাজিক বাধা রয়েছে। এই বাধাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:   

  1. নির্বাচনী এলাকার ওভারল্যাপ এবং দুর্বল কর্তৃত্ব: একজন সংরক্ষিত নারী সদস্যকে ৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি এলাকা থেকে নির্বাচিত হতে হয়, যা ৩ জন পুরুষ সদস্যের সমান। এর ফলে নারী সদস্যদের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত দায়িত্ব পুরুষদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হলেও, বাস্তবে উন্নয়ন বরাদ্দ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড (যেমন ভিজিডি, ভিজিএফ) বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হন।   
  2. সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বর্জন: প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (PIC) গঠন এবং বাজেট প্রণয়নে নারী সদস্যদের মতামতকে প্রায়শই পুরুষ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা গুরুত্ব দেন না।   
  3. শালিস ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রান্তিককরণ: পারিবারিক ও সামাজিক কোন্দল নিরসনে গ্রাম আদালত ও সামাজিক শালিসে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও, গ্রামীণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর কারণে তাদের শালিস প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়।   
  4. পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি: উপযুক্ত প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে নির্বাচিত নারী সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের পুরুষ সহকর্মী বা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে বাধ্য হন।   

উপ-জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি: লোকাল গভর্নমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (LGSP)

capacity বাংলাদেশে আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘লোকাল গভর্নমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট’ বা এলজিএসপি (LGSP)। তিন মেয়াদে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রকল্পটি সিরাজগঞ্জ পাইলট প্রজেক্টের (২০০০-২০০৬) সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে বাস্তবায়িত হয়।   

এলজিএসপি-র মাধ্যমে প্রবর্তিত প্রধান সংস্কারগুলো ছিল:

  1. সূত্রভিত্তিক সরাসরি অর্থ স্থানান্তর: ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মৌলিক ব্লক গ্র্যান্ট (BBG) পাঠানো হতো, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করে।   
  2. কর্মক্ষমতাভিত্তিক প্রণোদনা: ভালো আর্থিক হিসাব ও স্বচ্ছতা প্রদর্শনকারী পরিষদগুলোকে পারফরম্যান্স-বেসড গ্র্যান্ট (PBG) দেওয়া হতো।   
  3. সামাজিক जवाबদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ: প্রকল্প তদারকিতে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে ‘স্কিম সুপারভিশন কমিটি’ (SSC) গঠন করা হয়। পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটের ৩০% নারীদের প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়, যা তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখে।   
  4. বার্ষিক আর্থিক নিরীক্ষা: ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক বার্ষিক অডিট প্রবর্তন করা হয়, যা দুর্নীতি ও ফান্ডের অপব্যবহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   

মূল্যায়ন তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পের ফলে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নিজস্ব আয় গড়ে ৪২.৫% বৃদ্ধি পায় এবং নাগরিকদের কাছে তাদের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ৮৩,৭৬৭ জন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গণতন্ত্র পুনর্গঠনে এবং কর আদায় বৃদ্ধিতে (democracy watch-এর তথ্য অনুযায়ী কর আদায়ের হার ৩৫% থেকে ৪৩%-এ উন্নীত হয়) এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।   

২০২৪-পরবর্তী প্রশাসনিক সংকট এবং তোফায়েল আহমেদ কমিশন

crisis ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থানীয় সরকার কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে।   

১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে স্থানীয় সরকারের আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে সরকার “বিশেষ পরিস্থিতিতে” বা “জনস্বার্থে” যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণের ক্ষমতা লাভ করে। এই আইনের ওপর ভিত্তি করে ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দেশের ১২ জন সিটি মেয়র, ৬০ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৪৯৩ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৩২৩ জন পৌর মেয়রসহ মোট ১,৮৭৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে একযোগে অপসারণ করা হয়। শূন্য পদগুলোতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমলাদের (যেমন বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, ইউএনও) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।   

একই সাথে প্রখ্যাত স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি ‘স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়। ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এই কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ৫০১ পৃষ্ঠার একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যাতে ৫১টি প্রধান সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।   

কমিশনের প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল:

  • মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে পরোক্ষ নির্বাচন: ক্ষমতার অতি-ব্যক্তিস্বতন্ত্রীকরণ রোধে পরোক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ কেবল মেম্বার ও কাউন্সিলরদের নির্বাচিত করবেন এবং তারা পরবর্তীতে নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন করবেন।   
  • একক সমন্বিত আইন: ৫টি স্তরের জন্য আলাদা আলাদা আইন বাতিল করে একটিমাত্র ‘স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করা।   
  • গ্রাম আদালত বিলোপ: গ্রাম আদালতের অপব্যবহারের কারণে তা বাতিল করে উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত চালুর প্রস্তাব।   
  • নারীদের আসন পুনর্গঠন: সংরক্ষিত নারী আসনের ওভারল্যাপ পদ্ধতি বাতিল করে আলাদাভাবে নারী প্রার্থীদের জন্য ওয়ার্ড সুনির্দিষ্ট করা।   
  • ভ্যাট রাজস্ব ভাগাভাগি: দেশের মোট সংগৃহীত ভ্যাটের এক-তৃতীয়াংশ (33.3%) সরাসরি স্থানীয় সরকারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা।   
  • স্থানীয় সরকার কমিশন ও সিভিল সার্ভিস: স্থানীয় সরকারের নিজস্ব নিয়োগ ও বেতন কাঠামো নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বাধীন স্থায়ী কমিশন ও স্থানীয় ক্যাডার সার্ভিস গঠন করা।   

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২৫টি রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ এই সুপারিশগুলোর সমর্থনে সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়।   

২০২৬ সালের ক্ষমতার পরিবর্তন এবং দলীয় প্রশাসনের রাজনীতি

shift ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠিত হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আবার নতুন রূপান্তর শুরু হয়। নতুন সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচনের আয়োজন করার পরিবর্তে পূর্ববর্তী আমলাতান্ত্রিক প্রশাসকদের সরিয়ে দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে শুরু করে। দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন এবং ৫৬টি জেলা পরিষদে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।   

এদের মধ্যে ঢাকার সাবেক মেয়র বা জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় দেশের সুশীল সমাজ এবং জনশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং বেশ কিছু যৌক্তিক সমালোচনা সামনে আসে:   

প্রথমত, এই দলীয় নিয়োগের ফলে স্থানীয় সরকারগুলো পুনরায় রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়া বা মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের এভাবে পুনর্বাসিত করার কারণে।   

দ্বিতীয়ত, বিএনপির নিজস্ব সংস্কার রূপরেখা বা ‘৩১-দফা’-র ২১ নম্বর দফায় যেখানে স্থানীয় সরকারকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং আদালত বা মৃত্যুর কারণ ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ না করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বর্তমান সিদ্ধান্ত তার পরিপন্থী বলে সমালোচিত হয়।   

can তৃতীয়ত, আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে কোনো তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা এবং নতুন রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদের (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।   

উপসংহার ও টেকসই সংস্কারের রূপরেখা

reform বাংলাদেশের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ইতিহাস মূলত ক্ষমতার বিকেন্দรียকরণের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার এক জটিল চক্রের মধ্য দিয়ে আবর্তিত হয়েছে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে স্থানীয় সরকারকে কেবল প্রশাসনিক কাজের ‘প্রতিনিধি’ বা কেন্দ্রের হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহার না করে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।   

এলজিএসপির মতো সফল প্রকল্পগুলো প্রমাণ করেছে যে উপযুক্ত ক্ষমতা ও সরাসরি আর্থিক তহবিল প্রদান করলে স্থানীয় সরকারগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে। তোফায়েল আহমেদ কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে যদি একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তোলা যায় এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে সরাসরি অর্থায়ন ও নিজস্ব ক্যাডার সার্ভিস চালু করা যায়, তবেই কেবল বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।   

এই রূপান্তর বাস্তবায়নে যে পদক্ষেপগুলো জরুরি:

  • স্বেচ্ছাচারী অপসারণ আইন বাতিল করা: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশে অপসারণের পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তদারকি করা।   
  • একক সমন্বিত আইন কার্যকর করা: আলাদা আইনসমূহের জটিলতা দূর করে একক আইনের আওতায় শাসন পরিচালনা করা।   
  • আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ বাধ্যতামূলক করা: ভ্যাট আয়ের অংশ সরাসরি প্রদান করা এবং বাজেট ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।   
  • আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমানো: একটি স্বাধীন স্থায়ী কমিশন গঠন করা যা স্থানীয় পরিষদের জনবল নিয়োগ ও মূল্যায়ন স্বাধীনভাবে করবে।   

পরিশেষে, বাংলাদেশের গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে একটি কার্যকর, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিকাশের ওপর।

   lawyersnjurists.comBANGLADESH : LOCAL GOVERNMENT | The Lawyers & Jurists

thebangladeshdialogue.comBangladesh’s Reform Moment Will Be Won or Lost in Its Localities

en.prothomalo.comBNP govt also retaining power to dismiss elected representatives “at will” | Prothom Alo

bdlaws.minlaw.gov.bdThe Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh | 59. Local government

documents1.worldbank.orgImproving local governance and service delivery in Bangladesh: The role of local government finance – Documents & Reports

catalog.ihsn.orgFinance for Local Government in Bangladesh An Elusive Agenda

objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.comreforms – by the interim governmen

crisisgroup.orgBangladesh’s New Government Gets Down to Business – International Crisis Group

daily-sun.comExperts question transformation of local govt bodies into rehabilitation centres for BNP leaders – Daily Sun

today.thefinancialexpress.com.bdAll city mayors, 876 public reps removed – The Financial Express

iosrjournals.orgReview of Local Government (Union Parishad) Act-2009, Major findings and Analysis – IOSR Journal

journal.baiust.ac.bdWomen Representation in Urban Local Government of Bangladesh: Laws and Realities – BAIUST ACADEMIC JOURNAL

researchgate.net(PDF) Rural Local Government System in Bangladesh: Historical Development and Current Realities – ResearchGate

scribd.comZila Parishad: Local Governance in Bangladesh | PDF | Policy | Social Institutions – Scribd

lawteacher.netUpazilla System as a Local Government Body | LawTeacher.net

researchgate.net(PDF) Upazila Parishad in Bangladesh: Roles and Functions of Elected Representatives and Bureaucrats – ResearchGate

documents1.worldbank.orgWorld Bank Document

en.banglapedia.orgUpazila Parishad Act, 2009 – Banglapedia

scribd.comUpazila Administration in Bangladesh | PDF – Scribd

scribd.comLocal Government Finance in Bangladesh | PDF – Scribd

researchgate.netHistorical Evolution of Rural-Local Government in Bangladesh and Its Current State

researchgate.net(PDF) Performances of standing committees of Union Parishad (UP) in Bangladesh: A descriptive analysis – ResearchGate

bigd.bracu.ac.bdUnion Parishad (UP) election and communities view – BRAC Institute of Governance and Development

scribd.comLocal Government Evolution in Bangladesh | PDF – Scribd

103.133.167.11Shah Hossain Uz Zaman, ID: 2017-3-66-041. Local Government in Bangladesh

localgov.unwomen.orgBangladesh | Women in Local Government

nbr.gov.bdMEDIUM-AND LONG-TERM REVENUE STRATEGY – NBR

lawyersnjurists.comDiscover Upazila System Evolution Legal Guidelines Bangladesh – The Lawyers & Jurists

scribd.comLocal Government Reforms in Bangladesh 2024 | PDF – Scribd

scribd.comStructure of Local Government in Bangladesh | PDF – Scribd

clgf.org.ukBANGLADESH – Commonwealth Local Government Forum

prezi.comEffective Functioning of Zilla Parishad in Bangladesh – Prezi

researchgate.net(PDF) Urban Local Government Finance in Bangladesh – ResearchGate

en.thpbd.orgLocal-Government-UP-Act-2009-Amended-2010.pdf

tofailahmed.files.wordpress.comZila Parishad in Bangladesh: Amendment proposal of the Law before Election | Tofail Ahmed – WordPress.com

researchgate.net(PDF) PERSPECTIVE OPEN ACCESS Towards a Sustainable Rural Development Initiative: Good Practices and Learning of Local Governance Support Project (LGSP) – ResearchGate

ru.ac.bdGender and Political Culture: Women’s Participation in the Politics of Bangladesh – Rajshahi University

jssh.edu.afReality of People’s Participation and Accountability in Local Government in Bangladesh: A Study of Union Parishads

dwatch-bd.orgLocal Government Acts – Democracywatch

en.wikipedia.orgDistrict councils of Bangladesh – Wikipedia

djassr.comPublic Trust in the Recommendations of Local Government Reform Commission: A Study on Cumilla District – Dynamic Journal of Arts and Social Science Research

scribd.comLocal Government (Union Parishad) Act 2009 | PDF | Tribunal | Elections – Scribd

academia.edu(PDF) Standing Committees at the Union Parishad Level in Bangladesh – Academia.edu

universepg.comObstacles of Women Representatives Functioning in Union Parishad in Bangladesh – UniversePG

en.wikipedia.orgYunus ministry – Wikipedia

garymarks.web.unc.eduBangladesh | Gary Marks

bangladeshpost.netMayors, dist council, UZ chairmen removed – Bangladesh Post

ptfund.orgLocal Government Support Project (LGSP II) – Partnership for Transparency Fund

emerald.comAssessing fiscal health of local governments in Bangladesh: evidence from some south-western municipalities – Emerald Publishing

scribd.comFunctions and Powers of Zila Parishad | PDF | Government – Scribd

dwatch-bd.orgThe Status of W omen member of Union Parishad in Bangladesh – Democracywatchএটি

kus.ku.ac.bdWOMEN REPRESENTATIVES IN UNION PARISHAD OF BANGLADESH | Khulna University Studies

researchgate.netSuccess Stories under Local Governance Support Project (LGSP) -3 – ResearchGate

en.wikipedia.orgReform Commissions of Bangladesh – Wikipedia

justnewsbd.comLocal Govt Reform Commission submits report to Dr Yunus – Just News BDএ

mptf.undp.orgjoint un programme local governance support project in bangladesh (lgsp-lic)

bssnews.netLocal Government Reform Commission submits report to CA | News Flash | Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

mptf.undp.orgConsolidated Report on Activities Implemented under the Joint Programme “Local Governance Support Project

documents1.worldbank.orgImplementation Completion Report (ICR) Review BD: Local Governance Support Project II (P124514) – World Bank Document

tbsnews.netNo direct election for chairman and mayor posts, Local Government Reform Commission recommends | The Business Standard

asianews.networkBangladesh interim government removes all city mayors – Asia News Network

dhakatribune.comLocal Govt Reform Commission charts local power shift – Dhaka Tribune

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *