চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি আলোচনা কর

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি আলোচনা কর (এখানে দুইভাবেই দেয়া আছে…

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি আলোচনা কর

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি আলোচনা কর

(এখানে দুইভাবেই দেয়া আছে আপনার যেটা ভাল লাগবে সেটা শিখবেন।)

প্রথম পদ্ধতি

ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই (১৬৪৩-১৭১৫), যিনি “সূর্য রাজা” নামে পরিচিত, ইউরোপের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিলেন। তার বৈদেশিক নীতি মূলত ফ্রান্সের প্রভাব ও শক্তি বৃদ্ধি, সীমান্ত সম্প্রসারণ এবং হ্যাবসবার্গ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে গঠিত ছিল।


  1. ফ্রান্সের প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্য:

চতুর্দশ লুই ইউরোপের প্রধান শক্তি হিসেবে ফ্রান্সকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন এবং এজন্য ধারাবাহিকভাবে সামরিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ইতিহাস ৫ম পত্র সাজেশন

ইসলামের ইতিহাস ৬ষ্ঠ পত্র

  1. সীমান্ত সম্প্রসারণ:

ফ্রান্সের সীমান্ত সম্প্রসারণের জন্য তিনি বিভিন্ন যুদ্ধ পরিচালনা করেন, বিশেষত ফ্রাঙ্কো-ডাচ যুদ্ধ (১৬৭২-১৬৭৮) এবং ডেভলিউশন যুদ্ধ (১৬৬৭-১৬৬৮)।

  1. হ্যাবসবার্গ সাম্রাজ্যের বিরোধিতা:

অস্ট্রিয়া ও স্পেনের হ্যাবসবার্গ সাম্রাজ্যের শক্তি কমিয়ে ফ্রান্সের প্রভাব বাড়ানো ছিল তার নীতির প্রধান লক্ষ্য।

  1. পাইরেনিস চুক্তি (Treaty of the Pyrenees):

স্পেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্সের দক্ষিণ সীমান্ত স্থিতিশীল করেন এবং স্প্যানিশ রাজকন্যা মারিয়া তেরেসার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

  1. ফ্রাঙ্কো-ডাচ যুদ্ধ:

নেদারল্যান্ডসের বাণিজ্য ও সামরিক শক্তি দমন করতে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

  1. স্পেনীয় উত্তরাধিকার যুদ্ধ (War of Spanish Succession):

১৭০১-১৭১৪ সালের এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি তার নাতি ফিলিপকে স্পেনের সিংহাসনে বসানোর চেষ্টা করেন, যা ইউরোপের বিভিন্ন শক্তিকে তার বিরুদ্ধে একত্রিত করে।

  1. বালান্স অফ পাওয়ার নীতি:

ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য ভঙ্গ করে ফ্রান্সকে প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, যা অন্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

  1. উত্তর ফ্রান্সে দুর্গ নির্মাণ:

সীমান্ত রক্ষার জন্য ভবন বিশেষজ্ঞ ভবানের (Vauban) তত্ত্বাবধানে সীমান্ত এলাকাগুলোতে দুর্গ নির্মাণ করেন।

  1. নৌবাহিনী উন্নয়ন:

ফরাসি নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করে সামুদ্রিক বাণিজ্য রক্ষায় জোর দেন এবং সামুদ্রিক প্রভাব বিস্তারে মনোযোগ দেন।

  1. উপনিবেশ বিস্তার:

উত্তর আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, এবং ভারত মহাসাগরে ফরাসি উপনিবেশ স্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ফ্রান্সের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেন।

  1. কূটনৈতিক জোট:

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জোট গঠন এবং শত্রুদের বিচ্ছিন্ন করতে কূটনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করেন।

  1. ধর্মীয় নীতি ও প্রভাব:

ক্যাথলিক ধর্মকে সমর্থন দিয়ে প্রোটেস্ট্যান্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, যা কিছু ক্ষেত্রে ইউরোপে কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে।

  1. শান্তি চুক্তি:

রাইসউইক চুক্তি (Treaty of Ryswick, ১৬৯৭) এবং উট্রেখট চুক্তি (Treaty of Utrecht, ১৭১৩)-এর মাধ্যমে ইউরোপে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটান এবং ফ্রান্সের জন্য কূটনৈতিকভাবে কিছু সুবিধা নিশ্চিত করেন।


উপসংহার

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি ফ্রান্সকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তবে তার আগ্রাসী নীতি এবং যুদ্ধবাজ মনোভাব ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করে। তার শাসনামলের শেষে ফ্রান্স অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যদিও রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ফ্রান্স একটি উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায়।

২য় পদ্ধতি

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি আলোচনা কর

ভূমিকা:

চতুর্দশ লুই, যিনি “সূর্য রাজা” (Sun King) নামে পরিচিত, ছিলেন ফ্রান্সের দীর্ঘতম সময়ের শাসক (১৬৪৩-১৭১৫)। তাঁর শাসনামলে ফ্রান্স কেবল ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি, বরং তাঁর বৈদেশিক নীতিগুলো ইউরোপের রাজনীতি ও কূটনীতির গতিপথ পাল্টে দেয়। এই নিবন্ধে আমরা চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতির প্রধান দিকগুলো বিশ্লেষণ করব এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করব।


চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতিগুলো মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে:

  1. ফ্রান্সের ভূখণ্ড বৃদ্ধি: ফ্রান্সের সীমান্ত সম্প্রসারণ ও নতুন অঞ্চল অধিকার করা।
  2. রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা: ইউরোপে ফ্রান্সের আধিপত্য নিশ্চিত করা।
  3. কৌশলগত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি: শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী তৈরি করে ইউরোপে সামরিক প্রভাব বিস্তার।

বৈদেশিক নীতির প্রধান দিকসমূহ

১. যুদ্ধের মাধ্যমে সীমান্ত সম্প্রসারণ

চতুর্দশ লুই বিভিন্ন যুদ্ধে জড়িয়ে ফ্রান্সের সীমান্ত বিস্তৃত করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • Devolution War (১৬৬৭-১৬৬৮): স্পেনের নেদারল্যান্ডসের কিছু অঞ্চল দখল করার জন্য এই যুদ্ধ শুরু হয়।
  • Franco-Dutch War (১৬৭২-১৬৭৮): এই যুদ্ধে লুই নেদারল্যান্ডস দখল করার চেষ্টা করেন।
  • Nine Years’ War (১৬৮৮-১৬৯৭): এই যুদ্ধ ইউরোপজুড়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ জোট তৈরি করেছিল।

ইতিহাসবিদের মতামত: “লুইয়ের সামরিক নীতিগুলো ইউরোপীয় কূটনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, কিন্তু ফ্রান্সকে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করে।”

২. অর্থনৈতিক নীতি ও কলবার্টিজম

চতুর্দশ লুইয়ের অর্থমন্ত্রী জ্যঁ-ব্যাপটিস্ট কলবার্ট ফ্রান্সের অর্থনৈতিক নীতিকে শক্তিশালী করতে মার্কান্টিলিজম প্রবর্তন করেন।

  • বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার: ফ্রান্সের উপনিবেশগুলোর সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি।
  • বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা: ব্রিটেন ও ডাচ রিপাবলিকের সাথে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা।
  • নৌবাহিনীর উন্নয়ন: বাণিজ্যিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণ।

৩. কূটনৈতিক জোট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

লুই তাঁর বৈদেশিক নীতিতে কৌশলগত জোট গঠনের মাধ্যমে ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করেন।

  • স্পেনের সাথে সম্পর্ক: স্পেনের রাজার মেয়ে মারিয়া থেরেসাকে বিয়ে করে স্পেনের সাথে রাজনৈতিক সংযোগ স্থাপন।
  • বিরোধী জোটের সৃষ্টি: ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, এবং হল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সাথে বারবার সংঘর্ষ।

৪. সাংস্কৃতিক আধিপত্য

লুই তাঁর শাসনামলে ফ্রান্সের সংস্কৃতিকে ইউরোপে ছড়িয়ে দেন।

  • ফরাসি ভাষার প্রসার: কূটনীতির ভাষা হিসেবে ফরাসি জনপ্রিয় হয়।
  • স্থাপত্য ও শিল্পকলার বিকাশ: ভার্সাই প্রাসাদ ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে তুলে ধরে।

বৈদেশিক নীতির প্রভাব

ফ্রান্সের উপর প্রভাব

  • অর্থনৈতিক চাপ: ধারাবাহিক যুদ্ধের ফলে ফ্রান্সের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • সামরিক শক্তি বৃদ্ধি: সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ।

ইউরোপের উপর প্রভাব

  • ব্যালান্স অব পাওয়ার নীতি: লুইয়ের আগ্রাসী নীতিগুলো ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা তৈরি করে।
  • কূটনীতির পুনর্গঠন: জোট গঠন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে কূটনীতি নতুন মাত্রা পায়।

উপসংহার

চতুর্দশ লুইয়ের বৈদেশিক নীতি গুলো ফ্রান্সকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। যদিও এই নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল, তাঁর শাসনামলে ইউরোপীয় রাজনীতি ও কূটনীতিতে গভীর প্রভাব পড়েছিল। চতুর্দশ লুই শুধু একজন শাসকই নন, তিনি ছিলেন এক যুগান্তকারী রাজনীতিবিদ, যাঁর নীতিগুলো আজও ইতিহাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।


চতুর্দশ লুইয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন কী ছিল?

ইউরোপে ফ্রান্সের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতা।

তাঁর বৈদেশিক নীতি কি ফ্রান্সের জন্য সবসময় ইতিবাচক ছিল?

না ,এটি সামরিক শক্তি বাড়ালেও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছিল।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *