মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য” নীতি কি?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য” নীতি কি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের…
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য” নীতি কি?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি হলো “ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য” (Checks and Balances)। এই নীতি সরকারের তিনটি প্রধান শাখা—আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সরকারের কোনো একটি শাখাকে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে রোধ করে। নিচে এই নীতির মূল দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
ডিগ্রি পরিক্ষার সকল বিষয়ের সাজেশন ও এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য
১. আইনসভার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ
- আইনসভা (কংগ্রেস) যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের দায়িত্বে রয়েছে। তবে, এর ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, রাষ্ট্রপতি (নির্বাহী বিভাগ) কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল ভেটো করতে পারেন। আবার কংগ্রেস এই ভেটো ওভাররাইড করতে পারে যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে।
- বিচার বিভাগ আইনসভার প্রণীত আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারে।
২. নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ
- নির্বাহী বিভাগের প্রধান রাষ্ট্রপতি আইন প্রণয়ন করতে পারেন না, তবে তিনি নির্বাহী আদেশ (Executive Orders) জারি করে কিছু ক্ষেত্রে আইনের প্রভাব ফেলতে পারেন।
- কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির নীতিমালা ও বাজেট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এছাড়াও, কংগ্রেস ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারে।
- বিচার বিভাগ নির্বাহী আদেশের সাংবিধানিকতা পর্যালোচনা করতে পারে।
৩. বিচার বিভাগের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ
- বিচার বিভাগের প্রধান সুপ্রিম কোর্ট আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের কাজের সাংবিধানিকতা পর্যালোচনা করে। এই ক্ষমতাকে জুডিশিয়াল রিভিউ বলা হয়।
- কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারে এবং ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ দেন, তবে এই নিয়োগ কংগ্রেসের অনুমোদন সাপেক্ষ।
৪. ক্ষমতা ভারসাম্যের উদ্দেশ্য
- এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের কোনো একটি শাখা যেন অতিরিক্ত ক্ষমতা অর্জন না করে। এটি স্বৈরাচারী শাসন রোধ করে গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৫. ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিকতা
- এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ১৭৮৭ সালে। এর পিছনে দার্শনিক মন্টেস্কুর “ক্ষমতা পৃথকীকরণ” তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে।
- বর্তমান সময়েও এই নীতি মার্কিন রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন সরকারের বিভিন্ন শাখার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
উপসংহার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য” নীতি সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এটি একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কাঠামো নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সক্ষম হয়েছে।