সংক্ষেপে ‘একত্ববাদ’ ব্যাখ্যা কর
সংক্ষেপে ‘একত্ববাদ’ ব্যাখ্যা কর ‘একত্ববাদ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ও ধর্মতাত্ত্বিক…
সংক্ষেপে ‘একত্ববাদ’ ব্যাখ্যা কর
‘একত্ববাদ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ও ধর্মতাত্ত্বিক ধারণা, যা বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এটি মূলত এমন একটি বিশ্বাসকে বোঝায়, যেখানে সৃষ্টিকর্তার এককত্ব এবং একত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একাধিক ঈশ্বরের ধারণার বিপরীতে, একত্ববাদ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে যে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই সর্বশক্তিমান, এবং তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই।
ডিগ্রি পরিক্ষার সকল বিষয়ের সাজেশন ও এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
একত্ববাদের সংজ্ঞা ও মূলনীতি
একত্ববাদ বলতে এমন একটি মতবাদ বোঝানো হয়, যেখানে ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা এক ও অভিন্ন হিসেবে স্বীকৃত। ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম এবং ইহুদী ধর্মসহ অনেক ধর্মেই একত্ববাদ একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ইসলামে একত্ববাদকে “তাওহীদ” বলা হয়, যা ঈমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একত্ববাদের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে:
- অস্তিত্বগত একত্ববাদ – যেখানে ঈশ্বরের একক সত্তাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে মেনে নেওয়া হয়।
- উপাস্যগত একত্ববাদ – যেখানে কেবলমাত্র এক সৃষ্টিকর্তাকে উপাসনা করা হয় এবং অন্য কোনো উপাস্য বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই।
- গুণগত একত্ববাদ – যেখানে সৃষ্টিকর্তার গুণাবলী অনন্য এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কারও গুণের তুলনা করা যায় না।
বিভিন্ন ধর্মে একত্ববাদের অবস্থান
একত্ববাদ বিভিন্ন ধর্ম ও দর্শনের মাধ্যমে পৃথিবীর বহু সংস্কৃতিতে প্রচলিত।
- ইসলামে একত্ববাদ: ইসলামের মূল ভিত্তি হলো একত্ববাদ। কুরআনের সূরা ইখলাসে (১১২:১) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়।” মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর কোনো শরিক নেই, এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয়।
- খ্রিস্টধর্মে একত্ববাদ: যদিও খ্রিস্টধর্মে ত্রিত্ববাদ (Trinity) ধারণা প্রচলিত, তবে এক সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এখানেও গুরুত্বপূর্ণ।
- ইহুদী ধর্মে একত্ববাদ: ইহুদী ধর্মেও ঈশ্বরের এককত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়, যা “শেমা ইসরায়েল” শ্লোকে প্রতিফলিত হয়েছে: “শোনো, ইসরায়েল! আমাদের প্রভু, একমাত্র প্রভু।”
- দর্শনে একত্ববাদ: প্লেটো ও স্পিনোজার মতো দার্শনিকরাও একত্ববাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ব্রহ্মাণ্ডের সর্বশক্তিমান একক সত্তার ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে।
একত্ববাদের গুরুত্ব
একত্ববাদ শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সামাজিক ও নৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবসমাজে ঐক্য, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্ববোধকে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়াও একত্ববাদ ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে, কারণ এটি ব্যক্তি ও সামাজিক মূল্যবোধকে সুসংহত করে।
উপসংহার
একত্ববাদ এমন একটি দর্শন, যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এটি কেবল ধর্মীয় ধারণা নয়, বরং নৈতিক ও দার্শনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশ্বাস। বিশ্বের বহু ধর্ম ও দার্শনিক মতবাদ একত্ববাদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা প্রমাণ করে যে এটি মানুষের চিন্তা-ভাবনার গভীরে প্রোথিত একটি মৌলিক বিশ্বাস।