আব্বাসীয় আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা কর
আব্বাসীয় আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা কর ভূমিকা ইসলামের ইতিহাসে আব্বাসীয় আন্দোলন…
আব্বাসীয় আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা কর
ভূমিকা
ইসলামের ইতিহাসে আব্বাসীয় আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটে এবং আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠা হয়। এই আন্দোলন ছিল সুপরিকল্পিত, কৌশলী এবং দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের ফলাফল, যা ইসলামী সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে।
আব্বাসীয় আন্দোলনের পটভূমি
আব্বাসীয় আন্দোলন মূলত উমাইয়া খিলাফতের শাসনামলের বিভিন্ন অসন্তোষের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। উমাইয়াদের শাসনকালে আরবদের একচ্ছত্র আধিপত্য, বংশগত শাসনব্যবস্থা, এবং পারসিক ও অন্যান্য অনারব মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বিদ্রোহের সৃষ্টি করে।
আব্বাসীয় আন্দোলনের কারণ
১. বৈষম্যমূলক শাসননীতি: উমাইয়া শাসকগণ কেবল আরবদের বিশেষ সুবিধা দিত, ফলে অনারব মুসলমানরা অসন্তুষ্ট হয়।
২. ধর্মীয় অসন্তোষ: উমাইয়া খলিফারা ইসলামের প্রকৃত আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল বলে মনে করা হতো।
৩. পারসিকদের অসন্তোষ: পারসিকরা উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ছিল, কারণ তারা নিজেদের শাসনব্যবস্থা হারিয়েছিল।
৪. শিয়া ও হাশেমিদের সমর্থন: আব্বাসীয়রা নিজেদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর দাবি করে জনগণের সমর্থন লাভ করেছিল।
৫. উমাইয়াদের বিলাসবহুল জীবনযাপন: শাসকদের দুর্নীতি ও বিলাসী জীবনযাত্রা সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে।
আব্বাসীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব
আব্বাসীয় আন্দোলন মূলত হাশেমি গোত্রের সদস্যরা পরিচালনা করেছিল। আবু মুসলিম খোরাসানির নেতৃত্বে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে এবং উমাইয়া খিলাফতকে পরাজিত করে।
আব্বাসীয় আন্দোলনের কৌশল
গোপন প্রচারণা: দীর্ঘদিন ধরে গোপনে উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হয়।
আঞ্চলিক বিদ্রোহ: বিশেষ করে খোরাসানে বিদ্রোহ দানা বাঁধতে শুরু করে।
সামরিক শক্তির সমাবেশ: পারসিক ও অনারব মুসলমানদের সহযোগিতায় বিশাল বাহিনী গঠন করা হয়।
ধর্মীয় আবেগের ব্যবহার: আন্দোলনকারীরা নবীর বংশধর হিসেবে নিজেদের দাবি তুলে জনগণের সমর্থন আদায় করে।
আব্বাসীয় বিপ্লব ও উমাইয়া খিলাফতের পতন
খোরাসানে যুদ্ধ: ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে আবু মুসলিম খোরাসানির নেতৃত্বে প্রথম উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।
শেষ উমাইয়া খলিফার পরাজয়: ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় বাহিনী মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদকে যুদ্ধে পরাজিত করে।
উমাইয়া পরিবার নির্মূল: অধিকাংশ উমাইয়া সদস্যকে হত্যা করা হয়, শুধুমাত্র আবদুর রহমান নামক একজন ব্যক্তি আন্দালুসে পালিয়ে গিয়ে উমাইয়া রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
আব্বাসীয় আন্দোলনের ফলাফল
নতুন শাসনব্যবস্থা: আব্বাসীয় খলিফারা প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজিয়ে পারসিক ও অন্যান্য অনারবদের বেশি ক্ষমতা প্রদান করে।
ইসলামী সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের বিকাশ: আব্বাসীয় শাসনামলে বাগদাদকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বানানো হয়।
উন্নত প্রশাসন: উমাইয়াদের তুলনায় আব্বাসীয়দের প্রশাসন দক্ষ ও সুবিন্যস্ত ছিল।
উপসংহার
আব্বাসীয় আন্দোলনের ইসলামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ও মুসলিম সভ্যতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এটি ছিল নিপীড়িত জনগণের সংগ্রাম, যা ইসলামী সভ্যতাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়।
আব্বাসীয় আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা কর
join our Degree suggestion Facebook group