এরিস্টটলের মতে বিপ্লবের দুটি কারণ
এরিস্টটলের মতে বিপ্লবের দুটি কারণ প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle)…
এরিস্টটলের মতে বিপ্লবের দুটি কারণ
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle) রাজনীতি ও রাষ্ট্রতত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেছেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ “পলিটিক্স” (Politics)-এ তিনি বিভিন্ন ধরনের সরকার ও বিপ্লবের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, বিপ্লব সাধারণত দুটি প্রধান কারণে সংঘটিত হয়: অসাম্য (Inequality) এবং ক্ষমতার অপব্যবহার (Abuse of Power)।
বিপ্লবের দুটি কারণ
১. অসাম্য (Inequality)
এরিস্টটল মনে করতেন যে, যখন সমাজে ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে অসমতা চরমে পৌঁছে যায়, তখন জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। বিশেষত, যদি কেউ মনে করে যে তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তবে বিদ্রোহ বা বিপ্লব সংগঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র টিকে থাকার জন্য অবশ্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে সকল শ্রেণির মানুষ ন্যায্য অধিকার পায়।
উদাহরণস্বরূপ, ফরাসি বিপ্লবের (French Revolution, 1789) অন্যতম প্রধান কারণ ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য। সাধারণ জনগণ যখন দেখলো যে তারা রাজা ও অভিজাত শ্রেণির তুলনায় অধিক কর দিচ্ছে, তখন তারা বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২য় পত্র এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
২. ক্ষমতার অপব্যবহার (Abuse of Power)
এরিস্টটলের মতে, যখন শাসকরা জনগণের উপর অন্যায়ভাবে শাসন করে, তখন জনগণ অসন্তুষ্ট হয়ে বিদ্রোহ করতে বাধ্য হয়। একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা সাধারণত এই কারণে পতনের সম্মুখীন হয়। শাসকের দুর্নীতি, অবিচার, এবং জনগণের অধিকার খর্ব করা বিপ্লবের অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ হিসেবে রুশ বিপ্লব (Russian Revolution, 1917) দেখা যায়, যেখানে জার শাসকের অত্যাচার ও শোষণের কারণে জনগণ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল।
উপসংহার
এরিস্টটলের মতে, বিপ্লবের প্রধান কারণ হলো সামাজিক অসাম্য ও শাসকের ক্ষমতার অপব্যবহার। আধুনিক বিশ্বেও এই বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক, কারণ ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে যে যখন জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তারা বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চায়। ফলে, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা বজায় রাখা জরুরি।