যৌতুক প্রথা কী?
যৌতুক প্রথা যৌতুক প্রথা হলো একটি সামাজিক প্রথা, যেখানে বিয়ের…
যৌতুক প্রথা
যৌতুক প্রথা হলো একটি সামাজিক প্রথা, যেখানে বিয়ের সময় কনের পরিবার বরকে অর্থ, দ্রব্য বা মূল্যবান সম্পদ প্রদান করে। এটি সাধারণত কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বর বা তার পরিবারের কাছে দেওয়া হয় এবং ঐতিহ্যগতভাবে বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই প্রথা এখনও অনেকাংশে বিদ্যমান, যদিও এটি সমাজে ব্যাপক সমালোচিত এবং অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
Degree suggestion Facebook group
যৌতুক প্রথার বৈশিষ্ট্য
- অর্থনৈতিক আদান-প্রদান:
বিয়ের সময়ে কনের পরিবার সাধারণত কনের জন্য কিছু টাকা, গহনা, জমি বা অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্য বরকে দেয়। প্রথার অনুসারে, এই যৌতুক বরপক্ষের কাছে প্রদান করা হয়। - বিয়ের সময় কনে ও তার পরিবারের ওপর চাপ:
কনে এবং তার পরিবারকে এক ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়, কারণ যদি যৌতুকের পরিমাণ কাঙ্ক্ষিত না হয় বা না দেওয়া হয়, তবে বিয়ে থেকে সরে আসার সম্ভাবনা থাকে। - একটি সামাজিক ধারণা:
অনেক সমাজে যৌতুক প্রথা একটি ঐতিহ্য হিসেবে চলে আসছে, যেখানে কনের পরিবারের সামাজিক মর্যাদার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে গণ্য করা হয়।
নেতিবাচক প্রভাব
- নারীর ওপর শোষণ:
যৌতুক প্রথা নারীদের শোষণের একটি প্রধান উপায় হিসেবে কাজ করে। কনের পরিবারকে নানা কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে চাপের মধ্যে ফেলা হয়। অনেক সময় যৌতুকের জন্য কনে বা তার পরিবারকে শারীরিক বা মানসিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়। - বাড়তি চাপ ও সামাজিক বৈষম্য:
যৌতুকের কারণে অনেক পরিবার আর্থিক অসুবিধায় পড়ে এবং এটি একটি সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলি একে অন্যের কাছে কম পরিমাণে যৌতুক দিতে সক্ষম হয়, যার ফলে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। - গৃহস্থালী সহিংসতা:
যৌতুক না পেলে অথবা কম যৌতুক দেওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে বর বা তার পরিবার কনেকে শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার করতে থাকে। এর ফলে গৃহস্থালী সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, যা অনেকসময় গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়।
উপসংহার
যৌতুক প্রথা একটি সমাজে নৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এটি নারীর অধিকার ও মর্যাদা হরণের কারণ হতে পারে এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। বর্তমানে বাংলাদেশের মতো দেশে যৌতুক প্রথা আইনসিদ্ধভাবে নিষিদ্ধ, তবে এর বাস্তব প্রয়োগ অনেক সময় যথাযথভাবে হয় না। তাই সমাজের সকল স্তরের মানুষকে যৌতুক প্রথার বিরোধিতা করতে এবং নারী-পুরুষ সমতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।