মালিক শাহ এর উপর একটি টীকা লিখ।

মালিক শাহ এর উপর একটি টীকা লিখ। মালিক শাহ (১০৫৫-১০৯২)…

মালিক শাহ এর উপর একটি টীকা লিখ।

মালিক শাহ (১০৫৫-১০৯২) ছিলেন সেলজুক সাম্রাজ্যের অন্যতম মহান শাসক। তিনি সেলজুক সাম্রাজ্যের তৃতীয় সুলতান হিসেবে ১০৭২ থেকে ১০৯২ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তার শাসনামলকে সেলজুক সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার নেতৃত্বে সাম্রাজ্য ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২য় পত্র এর উত্তর

Degree suggestion Facebook group

প্রারম্ভিক জীবন ও সিংহাসনে আরোহণ

মালিক শাহ ছিলেন আলপ আরসালানের পুত্র। তার পিতা ১০৭২ সালে নিহত হলে, মালিক শাহ কিশোর বয়সেই সিংহাসনে বসেন। তবে তার শাসনের শুরুতে প্রশাসনের ভার মূলত তার প্রধানমন্ত্রী নিযাম আল-মুলকের ওপর ছিল। নিযাম আল-মুলক ছিলেন একজন জ্ঞানী ও কৌশলী ব্যক্তি, যিনি মালিক শাহের শাসনামলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাম্রাজ্য বিস্তার

মালিক শাহ কেবলমাত্র সামরিক বিজয়ের জন্য স্মরণীয় নন, বরং তিনি একজন দূরদর্শী প্রশাসকও ছিলেন। তার শাসনামলে:
✔ সাম্রাজ্যের সুশাসন নিশ্চিত করতে এক সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হয়।
✔ রাজ্যজুড়ে ডাক ব্যবস্থা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নত করা হয়।
✔ কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি আনতে বিভিন্ন সেচ প্রকল্প চালু করা হয়।
✔ বাগদাদ, নিশাপুর, ইস্পাহানসহ বহু শহরে স্থাপত্য ও জ্ঞানচর্চার বিকাশ ঘটে।

জ্ঞান ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা

মালিক শাহ বিদ্যাচর্চা ও বিজ্ঞানকে উৎসাহিত করতেন। তার আমলে জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত ও চিকিৎসাবিদ্যার উন্নতি হয়। বিখ্যাত ‘নিযামিয়া মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠার পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম বিশ্বের বহু প্রতিভাবান পণ্ডিত ও আলেম শিক্ষা লাভ করেছেন।

রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব

মালিক শাহের শাসনামলে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রও চলমান ছিল। বিশেষত, নিযাম আল-মুলকের প্রভাব ও শক্তি অনেকের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। ১০৯২ সালে নিযাম আল-মুলক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর কিছুদিন পরেই মালিক শাহও রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সেলজুক সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা নেমে আসে এবং সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।

উপসংহার

মালিক শাহ ছিলেন একজন প্রভাবশালী ও সফল শাসক, যার নেতৃত্বে সেলজুক সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। তার প্রশাসনিক দক্ষতা, সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা, এবং সামরিক সাফল্য তাকে ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও তার অকালমৃত্যুর পর সাম্রাজ্যে দুর্বলতা দেখা দেয়, তবুও তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার মধ্যযুগের মুসলিম সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *