মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য
মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা ছিল মূলত ধর্ম, নৈতিকতা এবং…
মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য
মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা ছিল মূলত ধর্ম, নৈতিকতা এবং সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এ সময় রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল শাসকের ঐশ্বরিক অধিকার, ফিউডাল ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব। নিচে মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২য় পত্র এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য
১. ধর্মের প্রভাব
মধ্যযুগে রাষ্ট্রচিন্তা গভীরভাবে ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিল। ইউরোপে ক্যাথলিক চার্চ রাজাদের ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করত, আর ইসলামি বিশ্বে খলিফা বা সুলতান শাসনের ধর্মীয় বৈধতা বহন করতেন। রাষ্ট্র পরিচালনা নৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
২. ঐশ্বরিক অধিকার তত্ত্ব
শাসকগণ নিজেদের ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করতেন। যেমন, ইউরোপে “Divine Right of Kings” তত্ত্ব প্রচলিত ছিল, যেখানে রাজাকে ঈশ্বরের মনোনীত শাসক হিসেবে গণ্য করা হতো। এই তত্ত্বের ফলে জনগণের মধ্যে রাজশক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ কম হত।
৩. ফিউডালিজম এবং বিকেন্দ্রীভূত শাসন
মধ্যযুগে কেন্দ্রীয় শাসনের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। জমিদার বা সামন্তপ্রভুরা নিজ নিজ এলাকায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতেন এবং তারা রাজাকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন। এতে ব্যক্তিগত আনুগত্যের উপর ভিত্তি করে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হতো।
৪. সামাজিক স্তরবিন্যাস
মধ্যযুগীয় সমাজ ছিল কঠোর শ্রেণিবদ্ধ। শাসক, জমিদার, সৈন্য, কৃষক ও দাস—এভাবে সমাজ বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত ছিল। সাধারণ জনগণ শাসকের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য ছিল এবং রাষ্ট্রের সকল সিদ্ধান্ত সাধারণত উচ্চ শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকত।
৫. আইন ও বিচারব্যবস্থা
মধ্যযুগের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধর্মীয় আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ইউরোপে চার্চের বিধি-বিধান আইন ব্যবস্থার উপর প্রভাব বিস্তার করত, এবং ইসলামি বিশ্বে শরিয়াহ আইন প্রচলিত ছিল।
সর্বোপরি, মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল, যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিবর্তে ধর্ম ও শাসকের কর্তৃত্ব ছিল মুখ্য।