ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সার্বভৌম: উক্তিটি ব্যাখ্যা কর
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সার্বভৌম: উক্তিটি ব্যাখ্যা কর “ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সার্বভৌম” এই…
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সার্বভৌম: উক্তিটি ব্যাখ্যা কর
“ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সার্বভৌম” এই উক্তিটি ব্রিটেনের সংবিধানিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি প্রকাশ করে। এটি ব্রিটিশ সংসদের সর্বোচ্চ আইনগত কর্তৃত্বকে নির্দেশ করে। নিচে এই উক্তিটির ব্যাখ্যা পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:
ডিগ্রি পরিক্ষার সকল বিষয়ের সাজেশন ও এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
১. সার্বভৌমত্বের ধারণা
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব বলতে বোঝায় যে পার্লামেন্টই হল সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান।
- এর অর্থ হল পার্লামেন্ট যে কোনো আইন পাস করতে পারে এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তকে বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।
২. আইনের ঊর্ধ্বে পার্লামেন্ট
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বের কারণে এটি কোনো বিদ্যমান আইন বা সংবিধানের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়।
- পার্লামেন্ট পূর্বের কোনো আইন বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে এবং নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারে।
৩. বিচার বিভাগের উপর কর্তৃত্ব
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বের কারণে বিচার বিভাগ পার্লামেন্টের প্রণীত আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।
- আদালত শুধুমাত্র আইনের ব্যাখ্যা করতে পারে, কিন্তু আইনকে বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণা করতে পারে না।
৪. যুক্তরাজ্যের সংবিধানের বিশেষত্ব
- যুক্তরাজ্যের কোনো লিখিত সংবিধান নেই, যা পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করে।
- পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তই শেষ কথা, এবং এটি কোনো সংবিধানিক বিধান দ্বারা সীমিত নয়।
৫. ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রস্থানের উদাহরণ
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বের একটি বড় উদাহরণ হল ব্রেক্সিট।
- ২০১৬ সালের গণভোটের পর পার্লামেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের প্রস্থানের সিদ্ধান্ত নেয়, যা পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকে প্রমাণ করে।
৬. সীমাবদ্ধতা ও সমালোচনা
- যদিও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সার্বভৌম, তবুও আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং মানবাধিকার আইনের মতো কিছু ক্ষেত্রে এর কর্তৃত্ব সীমিত হতে পারে।
- সমালোচকরা argue করেন যে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব গণতান্ত্রিক নীতির সাথে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
৭. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বের ধারণাটি ১৭শ শতাব্দীতে গৃহযুদ্ধ ও গৌরবময় বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি রাজতন্ত্রের কর্তৃত্বকে সীমিত করে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৮. বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা
- বর্তমান সময়েও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব রাজনৈতিক ও আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এটি যুক্তরাজ্যের সংবিধানিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপসংহার
“ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সার্বভৌম” এই উক্তিটি ব্রিটেনের সংবিধানিক ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় নীতি। এটি পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ আইনগত কর্তৃত্ব এবং রাজনৈতিক প্রাধান্যকে প্রতিফলিত করে। যদিও আধুনিক যুগে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও এই নীতি ব্রিটিশ রাজনীতির একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।