উন্নয়নশীল দেশ কি? বাংলাদেশের অর্থনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ
উন্নয়নশীল দেশ কি? বাংলাদেশের অর্থনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ উন্নয়নশীল দেশ…
উন্নয়নশীল দেশ কি? বাংলাদেশের অর্থনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ
উন্নয়নশীল দেশ বলতে সেইসব দেশকে বোঝানো হয়, যেগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তবে উন্নতির পথে রয়েছে। এসব দেশে দারিদ্র্যের হার বেশি, মাথাপিছু আয় কম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ধীরগতির হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করে এবং ধাপে ধাপে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যায়।
ডিগ্রি পরিক্ষার সকল বিষয়ের সাজেশন ও এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্য:
- মাথাপিছু আয় কম তবে ধীরে ধীরে বাড়ছে।
- দারিদ্র্যের হার বেশি কিন্তু অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে কমানোর চেষ্টা চলছে।
- অধিকাংশ জনগণ কৃষিনির্ভর এবং শিল্প ও সেবা খাত তুলনামূলকভাবে ছোট।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত নয়, তবে উন্নতির চেষ্টা চলছে।
- পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব, যেমন উন্নত সড়ক, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ।
- উচ্চ বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাব।
- প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ধীরগতির এবং শিল্পায়নের হার কম।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যার অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর হলেও শিল্প ও সেবা খাত দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। নিম্নে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:
১. কৃষিনির্ভর অর্থনীতি
- বাংলাদেশের প্রায় ৪০% জনগণ কৃষির সঙ্গে জড়িত এবং খাদ্যশস্য, পাট, মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করে।
- কৃষির অবদান ধীরে ধীরে কমলেও এটি এখনো অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত।
২. শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশ
- গার্মেন্টস, ওষুধ, চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।
- সেবা খাতের অবদান জিডিপির প্রায় ৫০% এবং এটি অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অংশ।
৩. রেমিট্যান্স ও প্রবাসী আয়
- প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি দারিদ্র্য কমাতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
৪. গার্মেন্টস শিল্প ও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি
- রপ্তানির প্রায় ৮০% তৈরি পোশাক শিল্প থেকে আসে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত।
- অন্যান্য রপ্তানিপণ্য: চামড়া, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ এবং হস্তশিল্প।
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য ও আমদানি নির্ভরতা
- বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যেমন জ্বালানি, শিল্পযন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল।
- বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও রপ্তানির উন্নতি হচ্ছে।
৬. জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থান
- বৃহৎ জনসংখ্যা অর্থনীতির জন্য একদিকে সম্পদ, আবার অন্যদিকে চাপ।
- বেকারত্ব ও অর্ধ-সংযুক্ত (Underemployment) শ্রমিকের সংখ্যা বেশি।
৭. উন্নয়ন প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন
- সরকার পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, অর্থনৈতিক অঞ্চল (Economic Zones) তৈরি করছে।
- বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন হচ্ছে, যা শিল্পায়নে সহায়ক।
৮. দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক উন্নয়ন
- দারিদ্র্যের হার ১৯%-এর নিচে নেমে এসেছে।
- নারীর কর্মসংস্থান ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৯. প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ
- আইটি খাত দ্রুত বাড়ছে, যা রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
- অনলাইন ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-গভর্নেন্সের প্রসার ঘটেছে।
উপসংহার
বাংলাদেশ একটি দ্রুত বিকাশমান উন্নয়নশীল অর্থনীতি, যেখানে কৃষি থেকে শিল্প ও সেবা খাতে রূপান্তর ঘটছে। জনসংখ্যা ও বেকারত্বের মতো কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রবাসী আয়, গার্মেন্টস শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। যথাযথ নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে।