দীন-ই-ইলাহী বলতে কী বোঝায়?
দীন-ই-ইলাহী বলতে কী বোঝায়? দীন-ই-ইলাহী (Din-i-Ilahi) ছিল মোগল সম্রাট আকবরের…
দীন-ই-ইলাহী বলতে কী বোঝায়?
দীন-ই-ইলাহী (Din-i-Ilahi) ছিল মোগল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত একটি ধর্মীয় মতবাদ, যা তিনি ১৬ শতকের শেষের দিকে চালু করেছিলেন। এটি মূলত হিন্দু, ইসলাম, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন আদর্শকে মিলিয়ে গঠিত একটি একক ধর্মীয় ব্যবস্থা ছিল। আকবরের উদ্দেশ্য ছিল একটি সর্বজনীন ধর্ম তৈরি করা, যা সাম্রাজ্যের ধর্মীয় ঐক্য বজায় রাখবে এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাত হ্রাস করবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২য় পত্র এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
দীন-ই-ইলাহী এর মূল দর্শন
দীন-ই-ইলাহীর মূল ভিত্তি ছিল মানবতাবাদ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ। এর কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল:
- একেশ্বরবাদ: দীন-ই-ইলাহী বিশ্বাস করত যে ঈশ্বর এক ও সর্বশক্তিমান।
- সহিষ্ণুতা: বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রচার করা।
- নৈতিক জীবনযাপন: দানের গুরুত্ব, অহিংসা এবং দয়ালু আচরণকে উৎসাহিত করা।
- নবীন আচার ও অনুষ্ঠান: আকবর তার অনুসারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু আচার ও নীতিমালা নির্ধারণ করেন, যেমন নির্দিষ্ট সময় প্রার্থনা ও ধর্মীয় উৎসব পালন।
দীন-ই-ইলাহী কতটা জনপ্রিয় হয়েছিল?
যদিও আকবর তার দরবারের কিছু ঘনিষ্ঠ সদস্য, বিশেষ করে আবুল ফজল ও বীরবলকে দীন-ই-ইলাহীর অনুসারী করেছিলেন, তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে এটি তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। ইসলাম ও হিন্দুধর্মের অনেক অনুসারী একে স্বীকার করতে রাজি হননি, কারণ এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
উপসংহার
দীন-ই-ইলাহী ছিল আকবরের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক ঐক্যের একটি ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা। যদিও এটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি, তবে এটি আকবরের ধর্মীয় উদারতার প্রতিফলন হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এটি প্রমাণ করে যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হলে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।