আলীনগর সন্ধির উপর টীকা
আলীনগর সন্ধির উপর টীকা ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ইংরেজ ইস্ট…
আলীনগর সন্ধির উপর টীকা
১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে স্বাক্ষরিত আলীনগর সন্ধি বাংলা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই সন্ধির মাধ্যমে ইংরেজরা বাংলায় তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২য় পত্র এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
সন্ধির পটভূমি
পলাশীর যুদ্ধের পূর্বে ইংরেজ ও নবাবের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। ১৭৫৬ সালে নবাব কলকাতা দখল করেন এবং কুখ্যাত ‘কালাপানি’ (ব্ল্যাক হোল ট্র্যাজেডি)-এর ঘটনা ঘটে। এর প্রতিশোধ নিতে রবার্ট ক্লাইভ নেতৃত্বে ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় এবং কলকাতা পুনরুদ্ধার করে। এরপর নবাবের সঙ্গে একটি সমঝোতার প্রয়োজন হয়, যা আলীনগর সন্ধির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
সন্ধির মূল শর্তসমূহ
১. নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের কাছ থেকে দখলকৃত কলকাতা ফেরত দেবেন।
2. ইংরেজদের ব্যবসায়িক সুবিধা এবং কর মওকুফ বহাল থাকবে।
3. ইংরেজরা কলকাতার চারপাশে দুর্গ পুনর্নির্মাণ করতে পারবে।
4. নবাব ও ইংরেজদের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শত্রুতা থাকবে না।
সন্ধির গুরুত্ব
আলীনগর সন্ধি মূলত ইংরেজদের জন্য লাভজনক ছিল। এর ফলে তারা বাংলায় নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার সুযোগ পায় এবং নবাবের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সন্ধির মাধ্যমেই ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এবং কয়েক মাস পরই পলাশীর যুদ্ধে (১৭৫৭) নবাবকে পরাজিত করে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
উপসংহার
আলীনগর সন্ধি শুধুমাত্র একটি সামরিক চুক্তি নয়; এটি ছিল ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপনের একটি কৌশলী পদক্ষেপ। এই সন্ধির মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের দরজা খুলে দেয়।