আমদানি বিকল্প শিল্প কী?
আমদানি বিকল্প শিল্প কী? আমদানি বিকল্প শিল্প (Import Substitution Industry)…
আমদানি বিকল্প শিল্প কী?
আমদানি বিকল্প শিল্প (Import Substitution Industry) হলো এমন এক ধরনের শিল্প, যেখানে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য পণ্য উৎপাদন করা হয়, যাতে বিদেশ থেকে সেই পণ্য আমদানি করার প্রয়োজন না হয়। এই শিল্প গড়ে তোলার উদ্দেশ্য হলো বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং দেশীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের বিকাশে সহায়তা করা।
ডিগ্রি পরিক্ষার সকল বিষয়ের সাজেশন ও এর উত্তর
Degree suggestion Facebook group
আমদানি বিকল্প শিল্পের বৈশিষ্ট্য:
- স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন করা হয়।
- বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে, কারণ আমদানি কমে যায়।
- দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
- প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি নীতি সহায়তা ও শুল্ক সুরক্ষা প্রয়োজন হয়।
- প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন হয়, কারণ দেশেই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশে আমদানি বিকল্প শিল্পের কিছু উদাহরণ:
- ওষুধ শিল্প: আগে বাংলাদেশ বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করত, কিন্তু বর্তমানে দেশীয় কোম্পানিগুলো প্রায় ৯৮% ওষুধ দেশেই উৎপাদন করছে।
- গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল: পোশাক শিল্প এখন আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কাঁচামাল ও উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চলেছে।
- প্লাস্টিক ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প
- ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্য (যেমন ওয়ালটন, সিম্ফনি, আইটেল)
- অটোমোবাইল ও মোটরসাইকেল শিল্প (যেমন রানার, হিরো, টিভিএস ইত্যাদি)
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পার্থক্য
বিষয় | ক্ষুদ্র শিল্প | কুটির শিল্প |
---|---|---|
সংজ্ঞা | মাঝারি পরিসরে পরিচালিত, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় এবং শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। | স্বল্প মূলধনে, পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত এবং হাতে তৈরি পণ্য উৎপাদিত হয়। |
উৎপাদন ব্যবস্থা | আধুনিক বা আধা-আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়। | প্রধানত হাতে তৈরি পণ্য উৎপাদন করা হয়। |
মূলধনের পরিমাণ | তুলনামূলকভাবে বেশি মূলধন প্রয়োজন হয়। | খুব কম মূলধনে পরিচালিত হয়। |
কর্মসংস্থান | প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। | সাধারণত পরিবারের সদস্যরা কাজ করে, বাইরের শ্রমিকের প্রয়োজন কম হয়। |
পণ্য উৎপাদন | তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে উৎপাদন হয় এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। | ছোট পরিসরে, স্থানীয় বাজারের জন্য উৎপাদন করা হয়। |
উদাহরণ | টেক্সটাইল, প্লাস্টিক, চামড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। | জামদানি, নকশিকাঁথা, মাটির হাঁড়ি, বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য। |
উপসংহার:
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উভয়ই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে কুটির শিল্প প্রধানত গ্রামীণ পরিবেশে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়, আর ক্ষুদ্র শিল্প তুলনামূলক বড় পরিসরে উৎপাদন করে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি হয়। এছাড়া, আমদানি বিকল্প শিল্প দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করে এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমায়।